জাপানে শুধু কাজে দক্ষ হলেই চলবে না?
এখন থেকে জাপানের অফিসে কাজ ভালো পারার চেয়েও বেশি জরুরি হয়ে উঠবে 'ভালো মানুষ' হওয়া।
ব্যাপারটা কী?
ভাবুন তো, AI বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কারণে এখন অনেক কঠিন কাজও সহজ হয়ে যাচ্ছে। এর মানে হলো, আগে যে কাজের জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হতো, এখন হয়তো AI-এর সাহায্য নিয়ে অনেকেই সেই কাজটা করতে পারবে।
এখন যদি একই দক্ষতার দুজন মানুষের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হয়, আপনি কাকে বাছবেন? অবশ্যই তাকেই, যার সাথে কথা বলতে ভালো লাগে, যাকে ভালো মনের মানুষ মনে হয়। কেউ ইচ্ছা করে একজন বদমেজাজি বা বিরক্তিকর মানুষের সাথে কাজ করতে চায় না। কারণ আমরা তো রোবট না, আমাদের আবেগ আছে। তাই জাপানের ওয়ার্কপ্লেসে এখন মিশুক আর হাসিখুশি মানুষের কদর বাড়ছে। 🧍♂️
কেন এমন হচ্ছে?
একজন বিখ্যাত জাপানি উদ্যোক্তা বলেছেন, AI আসার পর 'ভালো স্বভাবের মানুষদের' মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। কারণ, যে কাজগুলো আগে শুধু একজন রাগী কিন্তু খুব দক্ষ লোক করতে পারত, সেই কাজগুলো এখন AI দিয়েও করানো যাচ্ছে। ফলে, সেই রাগী লোকটিকে আর সহ্য করার কোনো দরকারই নেই।
ব্যাপারটা মজার না? এতদিন যে 'সেনপাই' বা বসের ভয়ে সবাই তটস্থ থাকতো, হয়তো ভবিষ্যতে তার আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না কারণ তার কাজটা একটা অ্যাপই করে দেবে। সুতরাং, এখন থেকে আপনার দক্ষতার পাশাপাশি আপনার ব্যবহারও আপনার ক্যারিয়ারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সমাজেও বদল আসছে
শুধু কাজের ক্ষেত্রেই না, আমাদের সমাজেও একটা বড় পরিবর্তন আসছে। আমরা সবাই কেমন যেন একা হয়ে যাচ্ছি। আমি মাঝে মাঝে ভাবি, আমাদের দেশে তো পাশের বাড়ির আন্টি কী রান্না করছে, সেটাও খবর থাকে। আর এখানে, জাপানের অ্যাপার্টমেন্টে পাশের ফ্ল্যাটে কে থাকে, তার মুখটাই হয়তো কোনোদিন দেখিনি।
এর একটা বড় কারণ হলো ইন্টারনেট। ফেসবুক বা ইউটিউবের অ্যালগরিদম আমাদের সেটাই দেখায়, যা আমরা দেখতে পছন্দ করি। ফলে, আমরা শুধু নিজের মতের মানুষের কথাই শুনি এবং ভাবতে শুরু করি যে আমাদের চিন্তাভাবনাই সঠিক। একে 'ফিল্টার বাবল' বা 'ইকো চেম্বার' বলা হয়। এর কারণে আমরা অন্য মতের মানুষদের থেকে আরও দূরে সরে যাই। তাই মাঝে মাঝে নিজের মতের বাইরের মানুষের কথাও শোনা দরকার, নাহলে আমরাও হয়তো অজান্তেই একটা গণ্ডির মধ্যে আটকে যাব।

Sign in to keep your name & data