জাপানে ভিসা রিনিউ ফি বাড়ছে, থাকা কঠিন হচ্ছে
পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট (PR) ভিসার ফি ১০,০০০ থেকে বেড়ে ২ লাখ ইয়েন হতে চলেছে।
কী হচ্ছে ব্যাপারটা?
জাপানে আমরা যারা থাকি, তাদের জন্য ভিসা রিনিউ একটা পরিচিত ঝামেলার নাম। সেই ৬,০০০ ইয়েনের স্ট্যাম্প কিনে জমা দেওয়ার দিন হয়তো শেষ হতে চলল।
জাপানের ইমিগ্রেশন ব্যুরো ঘোষণা করেছে যে তারা ভিসা রিনিউ এবং স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ফি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এখন আর সবার জন্য এক রেট থাকছে না।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদের উপর নির্ভর করে ফি ঠিক করা হবে। যেমন, ৩ মাসের ভিসার জন্য ১০,০০০ ইয়েন, ১ বছরের জন্য ৩৩,০০০ ইয়েন, আর ৫ বছরের ভিসার জন্য ৭৫,০০০ ইয়েন! অনলাইনে আবেদন করলে কিছুটা ছাড় পাওয়া যাবে অবশ্য।
পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির কী খবর?
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা আসছে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা PR আবেদনকারীদের জন্য। এতদিন যা ছিল ১০,০০০ ইয়েন, সেটা এক লাফে বেড়ে ২ লাখ ইয়েন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, ২০ গুণ বেশি।
যারা অনেকদিন ধরে জাপানে আছেন আর PR-এর জন্য আবেদন করার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাঁদের জন্য এটা একটা বড় ধাক্কা। এখন থেকে PR মানে শুধু দীর্ঘ প্রতীক্ষা নয়, বড় অংকের টাকা জমানোও বটে।
কেন এই পরিবর্তন?
ইমিগ্রেশন অফিসের মতে, এই ফি বৃদ্ধির কারণ হলো ভিসা প্রসেসিং-এর আসল খরচ তোলা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, জনপ্রতি ভিসা আবেদনে কর্মচারী এবং অফিসের খরচ হয় প্রায় ১০,০০০ ইয়েন।
এর সাথে যোগ করা হচ্ছে জাপানে থাকা বিদেশিদের জন্য সরকারি নীতি বাস্তবায়নের খরচ, যা বছরে প্রায় ২ লাখ ৯১ হাজার বিদেশির মধ্যে ভাগ করে দিলে জনপ্রতি বছরে প্রায় ২০,০০০ ইয়েন দাঁড়ায়। এই সব মিলিয়েই নতুন ফি ঠিক করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনে সরকারের বছরে প্রায় ৬৯০ থেকে ৯২০ বিলিয়ন ইয়েন অতিরিক্ত আয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা নাকি আবার আমাদের মতো বিদেশিদের ভালোর জন্যই খরচ করা হবে।
কবে থেকে চালু হবে?
এই নতুন নিয়ম চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকেই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য একটি পাবলিক কমেন্ট পর্বও আয়োজন করা হবে।
দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। আপাতত আমাদের শুধু অপেক্ষা আর টাকা জমানো ছাড়া আর কীই বা করার আছে।
