জাপানের সৈকতে এখন কেউ যায় না কেন?
৪০ বছর আগের তুলনায় জাপানের সৈকতে মানুষের ভিড় এখন ৯০% কমে গেছে। ভাবা যায়? 🏖️
কী ব্যাপার?
ব্যাপারটা সত্যি। ১৯৮৫ সালে যেখানে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন মানুষ সৈকতে যেত, সেখানে ২০২৪-এ সংখ্যাটা নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪ মিলিয়নে। সোজা কথায়, দশ ভাগের এক ভাগ। এমনকি সৈকতের সংখ্যাও প্রায় ৩০% কমে গেছে।
জাপানের এই অসহ্য গরমে সৈকতে যাওয়াটাই স্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু এখনকার প্রজন্ম বলছে অন্য কথা। তাদের মতে, "এত গরমে বাইরে যাওয়ার ইচ্ছে করে না", "রোদে পোড়া আর শরীর চটচটে হওয়ার ঝামেলা কে নেবে?", "এর চেয়ে আরামে ঘরে বসে সময় কাটানোর অনেক উপায় আছে"। সত্যি বলতে, সারাদিন সৈকতে মজা করে এসে ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে বালি পরিষ্কার করার কথা ভাবলেই কেমন লাগে।
কারণটা বেশ মজার
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৮০-র দশকে ব্যাপারটা ছিল 'মাস লেজার' বা গণবিনোদন। সবাই যেত, তাই আমাকেও যেতে হবে—এইরকম একটা ব্যাপার ছিল। শীতকালে স্কিইং, গ্রীষ্মে টেনিস বা সৈকতে যাওয়াটা ছিল একটা ট্রেন্ড। এখনকার যুগ ঠিক তার উল্টো। মানুষ এখন ভিড় এড়িয়ে চলতে চায়।
আরও মজার ব্যাপার হলো, তখনকার দিনে অনেকেই যে সৈকতে যাওয়াটা খুব উপভোগ করত, তা-ও নয়। বালি লাগা, শরীর চটচটে হওয়া—এসব তখনও বিরক্তিকর ছিল। কিন্তু সবাই যাচ্ছে বলে যেতে হতো। এখন আর সেই সামাজিক চাপটা নেই। এক কমেডিয়ান তো আরও মজার কথা বলেছেন: আগে সৈকতে অনেক 'গিয়ারু' (gyaru) বা ফ্যাশনিস্তা মেয়েরা যেত, আর তাদের দেখতে ছেলেরাও ভিড় জমাত। এখন মেয়েরা স্কিন ট্যান করা বা রোদে ঘোরার ব্যাপারে অনেক সচেতন, তাই তারাও আর তেমন যায় না, ফলে ছেলেরাও যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। 😂
তাহলে এখন কী হবে?
সৈকতের ধারের 'উমি নো ইএ' (umi no ie) বা বিচ হাউসগুলো এখন টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন উপায় বের করছে। যেমন, এক মালিক এখন তার বিচ হাউসে জামাকাপড়ের বাজার বসান। তিনি বলেন, তার কাস্টমারদের মাত্র ৩০% এখন সমুদ্রে নামে, বাকিরা আসে অন্য কারণে।
তবে আসল কথা হলো, সমুদ্রের আকর্ষণ কিন্তু কমেনি। ডাইভিং, স্নোরকেলিং বা অন্যান্য মেরিন অ্যাক্টিভিটিগুলো এখনও বেশ জনপ্রিয়। শুধু 'সৈকতে গিয়ে পানিতে গা ভেজানো'—এই συγκεκρι ট্রেন্ডটাই হারিয়ে যাচ্ছে। আসলে, জাপান তো ট্রেন্ডের দেশ। একটা আসে, আরেকটা চলে যায়। এটাই হয়তো জাপানের নতুন স্বাভাবিকতা।

Sign in to keep your name & data