৩০-এর কোঠায়? বছরে ৪০,০০০ ইয়েন অতিরিক্ত খরচের জন্য তৈরি হন।
৩০-এর কোঠায় বয়স আর হোম লোন আছে? আপনার জন্য বছরে প্রায় ৪০,০০০ ইয়েন অতিরিক্ত খরচের খবর আসছে।
কী হচ্ছে ব্যাপারটা?
জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থাৎ ব্যাংক অফ জাপান (BoJ) আবার সুদের হার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পকেটে। একটি সমীক্ষা বলছে, যদি সুদের হার ০.২৫% বাড়ে, তাহলে লোন আছে এমন ৩০-এর কোঠার বয়সীদের ওপর বছরে প্রায় ৪১,০০০ ইয়েন অতিরিক্ত বোঝা চাপতে পারে। সোজা কথায়, যাদের বয়স কম, তাদের ওপর চাপটা বেশি।
এর কারণ হলো, আমেরিকা তাদের সুদের হার বাড়াচ্ছে, আর ইয়েনের দাম ধরে রাখতে জাপানও সেই পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে। ভাবুন, বিশ্বের অন্য প্রান্তের সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের এখানকার জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
কিন্তু কেন হঠাৎ এই অবস্থা?
এখানেই আসল মজা। একদিকে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক আমেরিকানকে ৫,০০০ ডলার (প্রায় ৭.৬ লক্ষ ইয়েন) দেবেন। এটা বাজারে টাকার জোগান বাড়িয়ে দেবে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়বে। এর আঁচ এসে লাগছে জাপানের অর্থনীতিতেও।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে তেলের পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া। এর মানে হলো, গাড়ির তেল থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বাড়ার একটা চাপ তৈরি হচ্ছে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে যেন পুরো বিশ্ব আমাদের পকেট খালি করার ষড়যন্ত্র করছে। 🥲
আমাদের কী হবে?
ব্যাংকের সুদের হার বাড়ার মানে হলো, যারা হোম লোন বা অন্য কোনো লোন নিয়েছেন, তাদের মাসিক কিস্তির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। যারা কম সুদে লোন নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, সেই ১%-এর কম সুদের দিন হয়তো শেষ হতে চলেছে।
তবে একটা ভালো দিকও থাকতে পারে। সুদের হার বাড়ানো হয় সাধারণত ইয়েনকে শক্তিশালী করার জন্য। তার মানে, দেশে টাকা পাঠানোর রেট হয়তো একটু ভালো হতে পারে। কিন্তু জাপানে থাকার খরচও তো বাড়বে। এখন সবাই ব্যাংক অফ জাপানের গভর্নরের দিকে তাকিয়ে আছে। তার একটি কথাই ইয়েনের দর উপরে তুলতে পারে বা আবার নিচে নামিয়ে দিতে পারে।

Sign in to keep your name & data