সাপ্পোরোর সেই খুনের ঘটনা, হোটেলের ম্যানেজার বলছেন 'প্লিজ ভুলে যান'
ভাবুন তো, আপনার হোটেলে কেউ খুন হলো, আর আপনি চাইছেন সবাই যেন ঘটনাটা তাড়াতাড়ি ভুলে যায়!
কী হয়েছিল?
ঘটনাটা ২০২৩ সালের। সাপ্পোরোর সুসুকিনোর একটি হোটেলে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন লাশ পাওয়া যায়। খবরটা যখন ছড়ায়, হোটেলের ম্যানেজার তখন ছুটিতে অন্য শহরে ছিলেন। ফোনে খবর পেলেন, 'হোটেলে একজন মারা গেছেন'। কিন্তু যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন শুনলেন আসল কথা, যা শুনে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল— 'মাথাটা নেই'।
ভেবে দেখুন অবস্থাটা। একটা ছুটির দিনের সন্ধ্যায় আপনার কাছে এমন একটা ফোন এলো। আমি তো ভাবলেই ঘাম দিয়ে জ্বর আসে। প্রথম যে কর্মচারী লাশটা দেখেন, তিনি তো ভেবেছিলেন কোনো মহিলা গোসল করতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছেন। কিন্তু কাছে গিয়ে যা দেখেছেন, তারপর চাকরি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। 🛀
আসল সমস্যাটা অন্য জায়গায়
খুনের চেয়েও ম্যানেজারের জন্য বড় ভয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্য কিছু। হোটেলের ব্যবসা একেবারে লালবাতিতে জ্বলছে। করোনার ধাক্কা সামলে যখন সবেমাত্র কাস্টমার আসা শুরু হয়েছিল, ঠিক তখনই এই ঘটনা। এরপর থেকে হোটেলের আয় অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে, আর চলছে কেবল লোকসান।
ম্যানেজার বেচারা খুনের ঘরটাকে বিশেষ ধরনের ক্লিনিং করিয়ে, জাপানি রীতি মেনে 'ওহারাই' (শুদ্ধিকরণ) করিয়েও শান্তি পাননি। কারণ, কাস্টমার আসছে না। শুধু তাই নয়, পুরনো কর্মচারীরা একে একে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। নতুন কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিলেও কেউ আবেদন করে না। ভূতের ভয়ে নয়, ব্যবসা লাটে ওঠার ভয়ে কেউ এই হোটেলের চৌকাঠ মাড়াতে চায় না আরকি।
এখন তাহলে কী চান?
মজার ব্যাপার হলো, ম্যানেজারের খুনি বা তার পরিবারের ওপর কোনো রাগ নেই। তার একটাই আর্তি—তাড়াতাড়ি যেন এই মামলার বিচার শেষ হয় আর মানুষ এই ঘটনাটা ভুলে যায়। তার ভাষায়, "আমাদের হোটেলের তো কোনো দোষ ছিল না। ভুল করে আমাদের হোটেলটা বেছে নেওয়া হয়েছিল। আমি শুধু চাই এই ঘটনাটা বিস্মৃত হোক।"
আমি জাপানে এসে এই জিনিসটা প্রায়ই দেখি। কোনো বড়সড় কেলেঙ্কারি বা দুর্ঘটনা ঘটলে, সবাই চায় ব্যাপারটা নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি না করে ধামাচাপা দিয়ে ফেলতে, যেন সময়ের সাথে সাথে সবাই সব ভুলে যায়। একেই হয়তো বলে 'অনলি ইন জাপান' মোমেন্ট। 🤦
