← HoraYaba
ভিসা ফি ২০ গুণ বাড়ছে? জাপানে থাকাটাই কঠিন হয়ে যাবে
entertainment·20d

ভিসা ফি ২০ গুণ বাড়ছে? জাপানে থাকাটাই কঠিন হয়ে যাবে

ভাবছেন জাপানে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি (PR) নেবেন? সরকার এর ফি ২০ গুণ বাড়ানোর কথা ভাবছে। 🤯

ব্যাপারটা কী?

শুনলে অবাক হবেন, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে জাপানে ভিসার ফি বাড়ানোর একটা নতুন নিয়ম আসছে। এখন যেখানে স্ট্যাটাস চেঞ্জ বা রিনিউ করতে ৬,০০০ ইয়েন লাগে, সেখানে মেয়াদের ওপর নির্ভর করে এটা ৬৬,০০০ ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে। মানে ১০ গুণেরও বেশি!

আর সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা হলো পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা এইজুকেন (永住許可)-এর জন্য। এখনকার ১০,০০০ ইয়েন থেকে ফি এক লাফে বেড়ে ২০,০০,০০০ ইয়েন হয়ে যাবে! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, দুই লাখ ইয়েন! সরকার বলছে, দেশে বিদেশির সংখ্যা বেড়েছে, তাই নাকি খরচ সামলাতে এই ব্যবস্থা।

এতে সমস্যাটা কোথায়?

এখন কথা হলো, এই টাকাটা দেবে কে? আমাদের মতো সাধারণ কর্মীদের জন্য দুই লাখ ইয়েন জমানো কোনো সহজ কথা না। আর কোম্পানিগুলো যদি এই টাকা দেয়ও, তাহলে কি আমাদের বেতন বা বোনাসে তার প্রভাব পড়বে না?

মজার ব্যাপার হলো, সরকারই বলছে যে নার্সিং ও কেয়ারগিভিং (介護) সেক্টরে প্রচুর বিদেশি কর্মী দরকার। তাদের ছাড়া নাকি এই দেশের চলবেই না। একদিকে তারা আমাদের ডাকছে, আবার অন্যদিকে এখানে থাকার খরচ এতটা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যাপারটা ঠিক গাড়ির অ্যাক্সেলারেটর আর ব্রেক একসাথে চাপার মতো হয়ে গেল না?

শেষ পর্যন্ত ভুগবে কারা?

অনেকেই হয়তো ভাবছেন, 'এটা তো শুধু বিদেশিদের সমস্যা'। কিন্তু আসল ব্যাপারটা আরও গভীর। কেয়ারগিভিং কোম্পানিগুলো যদি খরচের চাপে নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে না পারে, তাহলে পরিষেবা কমে যাবে।

তখন জাপানের বয়স্ক মানুষেরাই ঠিকমতো সেবা পাবেন না। তাদের ছেলেমেয়েরা বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করবে। অর্থাৎ, বিদেশিদের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে পরোক্ষভাবে নিজেদের দেশের মানুষের জীবনই কঠিন করে তোলা হচ্ছে।

ভেবেছিলাম কষ্ট করে জাপানি শিখে, কাজ করে, ট্যাক্স দিয়ে এখানে একটা জীবন গুছিয়ে নেব। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন, সবসময় যেন অতিথিই থেকে যাই।

LINEFacebook
Comments

Say something — anonymous, no sign-up 👇

Sign in to keep your name & data