টোকিও বনাম বাকি জাপান: মাসিক বেতনের ফারাক এখন দেড় লাখ ইয়েন
টোকিওতে থাকা আপনার বন্ধুর বেতন আওমোরিতে থাকা আপনার চেয়ে মাসে দেড় লাখ ইয়েন বেশি হতে পারে।
কী হচ্ছেটা কী?
জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি বেতনের ওপর একটা রিপোর্ট দিয়েছে। আর তা দেখে মনে হচ্ছে, বেতনের ব্যাপারে জাপান দুই ভাগে বিভক্ত: টোকিও, আর বাকি সব।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের গড় মাসিক বেতনের হিসাবে টোকিও এক নম্বরে, আর সবচেয়ে পেছনে আওমোরি প্রিফেকচার। পার্থক্যটা কত? মাত্র ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ ইয়েন। 🫠
মানে, টোকিওর একজন কর্মী বছরে প্রায় ১৮ লাখ ইয়েন বেশি আয় করেন আওমোরির একজনের চেয়ে। এই টাকা দিয়ে একটা ছোটখাটো গাড়ি কেনা যায়। শুধু আওমোরি না, মিয়াযাকি, আকিতা, ইওয়াতেও প্রায় একই অবস্থা।
কেন এমন হচ্ছে?
মনে আছে, গত বসন্তে সব কোম্পানিগুলো ৫% বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল? খবরটা শুনে তো আমরা সবাই বেশ খুশি হয়েছিলাম।
কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এই বেতন বৃদ্ধির সিংহভাগই হয়েছে টোকিও-কেন্দ্রিক বড় বড় কোম্পানিগুলোতে। সোজা কথায়, বেতন বাড়ার উৎসবে মূল দাওয়াতটা শুধু টোকিওই পেয়েছে, বাকিরা হয়তো গেটের বাইরে থেকে একটু উঁকিঝুঁকি মেরেছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, "বড় কোম্পানিগুলো সব শহরে, তাই এমনটা হচ্ছে।" বাহ, কী সহজ ব্যাখ্যা।
তো, আমাদের কী?
ব্যাপারটা হলো, কম বেতনের এলাকা থেকে মানুষ খালি টোকিওর দিকে ছুটছে। আশ্চর্য, তাই না? মানুষ সেখানেই যেতে চায় যেখানে টাকা বেশি।
মাসিক দেড় লাখ ইয়েন বাড়তি আয় মানে অনেক কিছু। কারও জন্য এটা পুরো মাসের বাড়ি ভাড়া, কারও জন্য দেশে টাকা পাঠানোর বাড়তি স্বস্তি।
তাই পরেরবার যখন ভাববেন টোকিওর বাইরে কোথাও চলে যাবেন কারণ ভিড় কম বা প্রকৃতি সুন্দর, তখন এই বেতনের পার্থক্যটাও মাথায় রাখবেন। সুন্দর প্রকৃতির ছবি দেখে তো আর পেট ভরে না।
