জাপানের নতুন আয়কর নিয়ম: আয় বাড়াতে গিয়ে ফাঁদে পড়বেন না তো?
ভাবছেন এখন থেকে বছরে ২০ লাখ ইয়েন বেশি আয় করলেও চলবে? জাপান সরকার কিন্তু পুরোটা বলছে না।
কী হচ্ছে আসলে?
খবরটা হলো, ২০২৫ সাল থেকে জাপানে আয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা বাড়তে চলেছে। যেটাকে বলা হয় "১০৩万の壁" বা ১.০৩ মিলিয়ন ইয়েনের দেয়াল।
এতদিন যারা পার্ট-টাইম কাজ করতেন, তারা আয় ১০.৩ লাখ ইয়েনের নিচে রাখার চেষ্টা করতেন। কারণ এর বেশি হলেই নিজের আয়কর (income tax) দিতে হতো এবং স্বামী বা স্ত্রীর ট্যাক্স থেকেও ছাড় (dependent deduction) বাতিল হয়ে যেত। সরকার এখন এই সীমা বাড়িয়ে ১২.৩ লাখ ইয়েন করার কথা বলছে। তার মানে, এখন আপনি প্রায় ২০ লাখ ইয়েন বেশি আয় করলেও আগের মতোই ট্যাক্সের সুবিধা পাবেন।
খবরটা শুনেই অনেকে ভাবছেন, 'বাহ! তাহলে তো আমি ১৩ লাখ ইয়েনের বদলে এখন ১৫ লাখ ইয়েন আয় করতে পারব!' আমি নিজেও প্রথমে এটাই ভেবেছিলাম।
এখানেই আসল ভুলটা হচ্ছে
না, আপনি পারবেন না। এটাই হলো সেই ফাঁদ। সরকার ট্যাক্সের নিয়ম বদলেছে, কিন্তু সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্সের (社会保険 - shakai hoken) নিয়ম বদলায়নি।
জাপানে আয়ের অনেকগুলো 'দেয়াল' বা সীমা আছে। ১৩ লাখ ইয়েনের দেয়ালটা হলো সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্সের জন্য। আপনার আয় যদি বছরে ১৩ লাখ ইয়েন এক পয়সাও বেশি হয়, তাহলে আপনাকে আপনার স্বামী বা স্ত্রীর ইন্স্যুরেন্স থেকে বেরিয়ে এসে নিজের পকেট থেকে স্বাস্থ্য বীমা (health insurance) এবং পেনশন (pension) এর টাকা দিতে হবে। আর এই টাকার পরিমাণ কিন্তু অনেক।
সরকার আয়করের সীমা বাড়িয়েছে, যা নিয়ে সবাই কথা বলছে। কিন্তু সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্সের ১৩ লাখের সীমা আগের মতোই আছে, যা নিয়ে কেউ তেমন কিছু বলছে না।
তাহলে আপনার কী করা উচিত?
আপনাকে দুটো বিষয় গুলিয়ে ফেললে চলবে না।
এক, আয়কর (所得税) - এর সীমা ১.০৩ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.২৩ মিলিয়ন হচ্ছে। এটা ভালো খবর।
দুই, সামাজিক বীমা বা সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স (社会保険) - এর সীমা আগের মতোই ১.৩০ মিলিয়ন ইয়েন থাকছে। এটা বদলায়নি।
সুতরাং, আপনি যদি এতদিন ১৩ লাখ ইয়েনের নিচে আয় করে সামাজিক বীমার টাকা বাঁচাতেন, তাহলে আপনাকে এখনও সেই ১৩ লাখ ইয়েনের নিচেই থাকতে হবে। নতুন নিয়মে আপনার কোনো লাভ হচ্ছে না। এই নিয়মটি কেবল তাদের জন্য যারা ১০ লাখ ইয়েনের আশেপাশে আয় করতেন।
মনে হচ্ছে যেন সরকার ভালো খবরটা খুব জোরে ঘোষণা করেছে, আর আসল শর্তটা একদম চুপিসারে রেখে দিয়েছে। 🤔
