কোবেতে ১৫ বছর ধরে ফ্রিজে দ্বিখণ্ডিত লাশ
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর, ১৫ বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি ফ্রিজ থেকে লাশের গন্ধ বেরিয়ে এল।
কী ঘটেছে?
জাপানের কোবে শহরের ঘটনা। ১৯শে জুন, এক প্রতিবেশী তার পাশের ফ্ল্যাট থেকে আসা ভয়ংকর দুর্গন্ধের কথা পুলিশকে জানায়।
এর পরের দিন পুলিশ যখন সেই ফ্ল্যাটে ঢোকে, তারা দেখে যে বিদ্যুতের লাইন কাটা একটি ফ্রিজার থেকে গন্ধটা আসছে। ফ্রিজারের ভেতরে দুটি ব্যাগে একটি দ্বিখণ্ডিত লাশ রাখা ছিল। লাশের উপরের অংশে টি-শার্ট এবং নিচের অংশে হাফপ্যান্ট পরানো ছিল।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, লাশটি সেই ফ্ল্যাটেরই বাসিন্দা ইউতাকা নিশিগুচির। তিনি প্রায় ১৫ বছর আগে, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ৪২ বছর বয়সে মারা যান।
১৫ বছর ধরে কেউ টেরও পেল না?
আমি জাপানে থাকি, আর এই ব্যাপারটা আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করে। একটা মানুষ ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ, অথচ কেউ তার খোঁজও নেয়নি বা সন্দেহও করেনি?
ফ্ল্যাটের ভেতরে কোনো রক্তের দাগ বা জোরজবরদস্তির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিল্ডিংটির মূল গেটেও কোনো অটো-লক বা নিরাপত্তা দরজা ছিল না, তাই যে কেউ সহজেই ভেতরে ঢুকতে পারতো।
পুলিশ এটিকে একটি হত্যাকাণ্ড এবং লাশ গোপনের ঘটনা হিসেবে দেখছে এবং ৮০ জনের একটি তদন্তকারী দল গঠন করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কীভাবে একটি লাশ এতদিন ধরে সবার চোখের আড়ালে রয়ে গেল?
জাপানে এমন ঘটনা নতুন নয়
ভাবছেন এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা? একদমই না। জাপানে ফ্রিজে লাশ লুকিয়ে রাখার ঘটনা আগেও ঘটেছে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, ইবারাকি প্রিফেকচারের এক ৭৫ বছর বয়সী মহিলাকে তার প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের লাশ ২০ বছর ধরে ফ্রিজে রাখার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে, টোকিওর এক ৪৮ বছর বয়সী মহিলা তার মায়ের লাশ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্রিজে রেখেছিলেন, কারণ তিনি ভয় পেয়েছিলেন যে মায়ের মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে।
এই ঘটনাগুলো জাপানের একাকীত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
