সপ্তাহে ১০ মিনিট স্ট্রেচিং, আর কিছু লাগবে না?
জাপানি বিজ্ঞানীরা বলছেন সপ্তাহে মাত্র ১০ মিনিট স্ট্রেচিং করলেই নাকি শরীর ফ্লেক্সিবল হয়ে যায়।
সত্যি নাকি? সপ্তাহে মাত্র ১০ মিনিট?
আমি তো এতদিন ভাবতাম স্ট্রেচিং মানেই হলো ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে শরীরকে দড়ি পাকানো। কিন্তু জাপানের বিখ্যাত 'Tarzan' ম্যাগাজিন বলছে অন্য কথা। তাদের মতে, আসল জিনিসটা হলো এক সপ্তাহে আপনি মোট কতক্ষণ স্ট্রেচিং করছেন, একদিনে কতক্ষণ করছেন সেটা বড় কথা নয়।
এই বিষয়ের এক নম্বর গবেষক, নিশি কিউশু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নাকামুরা মাসাতোশি বলেছেন, প্রতি সপ্তাহে মোট ১০ মিনিট (মানে ৬০০ সেকেন্ড) স্ট্রেচিং করলেই শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ে। ভাবা যায়! 🤯 প্রতিদিন করলে দিনে মাত্র ৮৬ সেকেন্ড। সকালে, দুপুরে আর রাতে ৩০ সেকেন্ড করে করলেই কাজ শেষ।
তবে হ্যাঁ, দুদিন গ্যাপ দিয়ে তিন দিনের দিন করলে কিন্তু হবে না। তাতে যা ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়বে, তার চেয়ে বেশি কমে যাবে। তাই অল্প হলেও রোজ করা ভালো। আমাদের মতো ব্যস্ত মানুষদের জন্য এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে।
শুধু শরীর না, মাথাও ঠান্ডা রাখে
জাপানের এই জীবনে স্ট্রেস তো আর কম না। সারাদিনের কাজের চাপ, গিজগিজে ভিড়ের ট্রেন, সব মিলিয়ে মেজাজ ঠিক রাখাই কঠিন। এই সময় স্ট্রেচিং কিন্তু দারুণ কাজ দেয়। এটা শুধু শরীরকে নয়, মনকেও শান্ত করে। কারণ স্ট্রেচিং করলে আমাদের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম চালু হয়, যা শরীরকে রিল্যাক্স হতে সাহায্য করে।
আরও একটা মজার জিনিস হলো, স্ট্রেচিং নাকি রক্তচাপও কমায়। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, হাই ব্লাড প্রেসারের রোগীরা ৮ সপ্তাহ ধরে স্ট্রেচিং করে যে ফল পেয়েছেন, তা জোরে হাঁটার থেকেও ভালো। কারণ স্ট্রেচিং করার সময় আমাদের রক্তনালীগুলোও প্রসারিত হয়, ফলে রক্তচাপ কমে আসে।
বুড়ো বয়সেও কাজ হবে?
অনেকেই ভাবে, বয়স হয়ে গেছে, শরীর শক্ত হয়ে গেছে, এখন আর স্ট্রেচিং করে কী হবে। একদম ভুল ধারণা। গবেষণা বলছে ৮০-৯০ বছর বয়সেও স্ট্রেচিং করলে শরীর ফ্লেক্সিবল হয়। তাহলে আমাদের তো বয়স সবে শুরু। 😉
এর কারণ হলো, স্ট্রেচিং আমাদের মস্তিষ্কের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। ফলে আমরা আগের চেয়ে বেশি শরীরকে প্রসারিত করতে পারি। এমনকি স্ট্রেচিংয়ের হালকা মাসল-বিল্ডিং এফেক্টও আছে। যারা জিম করতে পারেন না বা চান না, তাদের জন্য এটা একটা দারুণ বিকল্প হতে পারে।

Sign in to keep your name & data