জাপানে কোন চাকরিতে বেতন আকাশছোঁয়া?
জাপানে বছরে ১ কোটি ইয়েন আয় করাটা কি আসলেই সম্ভব? 🤔
ব্যাপারটা কী?
আমি আমার কনবিনি-র বেনতো খেতে খেতে খবরটা পড়ছিলাম। জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি জরিপ প্রকাশ করেছে, যেখানে দেশের সবচেয়ে বেশি বেতনের চাকরিগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে। নারী এবং পুরুষদের জন্য আলাদা আলাদা তালিকা।
দেখে তো আমার হাতের ৫০০ ইয়েনের বেনতোটাকেও কেমন যেন করুণা করতে ইচ্ছে হলো।
পুরুষদের জন্য সোনার খনি
পুরুষদের তালিকায় এক নম্বরে আছেন ‘এয়ারক্রাফট পাইলট’, যাদের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ ইয়েন। ভাবা যায়! দুই নম্বরে আছেন ‘ডাক্তার’ (প্রায় ১ কোটি ৫৯ লক্ষ ইয়েন)।
এরপর আছেন ‘ব্যবস্থাপনা/অর্থ/বীমা পেশাজীবী’, ‘ডেন্টিস্ট’, এবং ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক’—এরা সবাই বছরে ১ কোটি ইয়েনের বেশি আয় করেন। ওই ‘অন্যান্য ব্যবস্থাপনা/অর্থ/বীমা পেশাজীবী’ ব্যাপারটা ঠিক কী, কে জানে। শুনতে এমন লাগে যেন এটা এমন একটা চাকরি যা কেবল বিশেষ কারো বাবার ছেলে হলেই পাওয়া যায়।
নারীদের ক্ষেত্রে চিত্রটা কেমন?
নারীদের তালিকায় এক নম্বরে আছেন ‘ডাক্তার’, যাদের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি ২৭ লক্ষ ইয়েন। খুব ভালো, কিন্তু পুরুষ ডাক্তারদের চেয়ে একটু কম। দুই নম্বরে ‘ডেন্টিস্ট’ (প্রায় ৯৯ লক্ষ ইয়েন) এবং তিন নম্বরে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক’ (প্রায় ৯৮ লক্ষ ইয়েন)।
তারা ১ কোটি ইয়েনের মাইলফলকটা একটুর জন্য ছুঁতে পারেননি। কী একটা আফসোস! পুরুষ ও নারী উভয়ের তালিকাতেই ডাক্তার, ডেন্টিস্ট, অধ্যাপক – এসব পেশাগুলো রয়েছে। অর্থাৎ, বিশেষ জ্ঞান বা ডিগ্রির প্রয়োজন হয় এমন চাকরিগুলোরই কদর বেশি।
আসল কথা হলো...
এখন আপনারা হয়তো ভাবছেন, একই চাকরিতে নারী-পুরুষের বেতনে এত তফাৎ কেন? রিপোর্ট বলছে, ব্যাপারটা ঠিক তেমন নয়। এই সংখ্যাগুলো হলো গড়। মানে, এই জরিপে অংশ নেওয়া পুরুষ ডাক্তারদের গড় বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা বা পদের সাথে নারী ডাক্তারদের গড় হয়তো মিলবে না।
যাইহোক, এসব কোটি কোটি ইয়েনের গল্প পড়তে পড়তে আমার কফিটা ঠান্ডা হয়ে গেল। এখন ভাবছি আজকের ময়লাটা কি মোয়াসেরু গোমি (পোড়ানো যায় এমন আবর্জনা) নাকি মোয়াসেনাই গোমি (পোড়ানো যায় না এমন আবর্জনা)-র ব্যাগে ফেলব। 😂

Sign in to keep your name & data