বছরে ১ কোটি আয় করেও জাপানে আপনি ‘ধনী’ নন
বছরে ১ কোটি ইয়েন আয় করেও জাপানে আপনাকে 'ধনী' বলা হবে না।
আসল ঘটনাটা কী?
আমি সবসময় ভাবতাম জাপানে বছরে ১ কোটি ইয়েন আয় করা মানেই জীবনটা সেট। চূড়ান্ত লক্ষ্য।
কিন্তু একটা জাপানি আর্টিকেল পড়ে আমার ধারণা পুরো পাল্টে গেল। জাপানে 'ধনী' বা 'ফুয়ুসো' (富裕層) হওয়ার সংজ্ঞাটা আসলে আয়ের উপর নির্ভর করে না।
ব্যাপারটা হলো আপনার কাছে কত টাকার 'সম্পদ' আছে, সেটার ওপর। মানে আপনার সেভিংস, স্টক, ইনভেস্টমেন্ট এসব মিলিয়ে মোট কত। আপনার বাড়ি বা গাড়ির দাম কিন্তু এর মধ্যে ধরা হয় না।
তাহলে ধনী কারা?
নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটা রিপোর্ট অনুযায়ী, জাপানে ধনী হওয়ার একটা নির্দিষ্ট মাপকাঠি আছে।
যাদের কাছে ৫ কোটি থেকে ১০ কোটি ইয়েনের কম সম্পদ আছে, তাদের বলা হয় 'জুন-ফুয়ুসো' বা প্রায়-ধনী।
আসল 'ফুয়ুসো' বা ধনী হলো তারা, যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ইয়েন থেকে শুরু করে ৫০ কোটি ইয়েনের কম। আর ৫০ কোটি ইয়েনের বেশি যাদের আছে, তারা হলো 'চো-ফুয়ুসো' বা অতি ধনী।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, জাপানের মোট পরিবারের মাত্র ২.৭% এই 'ধনী' ক্যাটাগরিতে পড়ে। মানে আপনার আসেপাশের ১০০টা পরিবারের মধ্যে হয়তো মাত্র ২-৩টি পরিবার সত্যিকারের ধনী।
তাহলে আমাদের কী হবে?
এই হিসাব দেখলে মাথা ঘুরে যায়, তাই না? তার মানে ১ কোটি ইয়েনের স্যালারিটা ক্লাবে ঢোকার টিকিট নয়।
কারণ আপনার আয় ১ কোটি হলেও যদি খরচও ১ কোটি হয়, তাহলে তো জমানো টাকার পরিমাণ শূন্য। অন্যদিকে, হয়তো কেউ বছরে ৭০ লক্ষ ইয়েন আয় করে, কিন্তু খরচ বাঁচিয়ে ঠিকমতো ইনভেস্ট করে, সে কিন্তু ধীরে ধীরে এই ধনী হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারে।
আর্টিকেলটাতে বলা হয়েছে, জাপানে অনেকে ধনী হয়েছে শুধুমাত্র শেয়ার বাজারের লাভের কারণে, তাদের আয় হয়তো আহামরি কিছু ছিল না।
তাহলে আমাদের মতো প্রবাসীদের জন্য শিক্ষাটা কী? শুধু বেশি আয়ের পেছনে ছুটলেই হবে না, টাকাটা জমানো এবং ঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করাটাই আসল খেলা।
