সুখ মানে স্যুট পরে কনবিনির আইসক্রিম খাওয়া
জাপানের এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, সুখ কী, তা তিনি বুঝেছিলেন এক ধনী লোককে আইসক্রিম খেতে দেখে।
সেই স্যুট-পরা আঙ্কেল
ঘটনাটা টোকিওর এক ধনী এলাকা, সেতাগায়া-র। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ওয়াদা হিদেকি একদিন রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন তিনি দেখলেন, উল্টো দিক থেকে স্যুট-পরা এক ভদ্রলোক হেঁটে আসছেন। বয়স পঞ্চাশের কোঠায়, পরনে দামি স্যুট, হাতে ব্র্যান্ডের ব্যাগ। দেখেই বোঝা যায়, বেশ বড় পদে চাকরি করেন আর অনেক ধনী।
কিন্তু অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, সেই লোকটির ডান হাতে ছিল একটি ভ্যানিলা সফট-সার্ভ আইসক্রিম। সম্ভবত কাছের কোনো কনবিনি থেকে কিনেছেন। তিনি ছোট বাচ্চাদের মতো করে সেই আইসক্রিম চাটতে চাটতে আসছিলেন, মুখেও লেগে যাচ্ছিল। কিন্তু তার মুখের অভিব্যক্তি ছিল এতটাই আনন্দের যে, দেখে লেখকের নিজেরই ভালো লাগছিল।
আসল ব্যাপারটা কী?
লেখক তখন ভাবতে শুরু করেন, এই লোকটির জীবনে কী চলছে? সম্ভবত তার পরিবার তাকে মিষ্টি খেতে বারণ করেছে। হয়তো ডায়াবেটিসের রোগী। তাই বাড়িতে তিনি আইসক্রিম খাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারেন না।
তার জীবনের একমাত্র আনন্দ হয়তো এই লুকিয়ে আইসক্রিম খাওয়াটা। অফিসে তিনি একজন দারুণ বস, বাড়িতে একজন ভালো বাবা। কিন্তু এই মুহূর্তে তিনি যেন সব নিয়ম ভেঙে বলছেন, "আরে আমিও তো এমন অগোছালো হতে পারি!" এই সামান্য আইসক্রিমটাই তার কাছে স্বাধীনতার স্বাদ।
সুখ আসলে খুবই সস্তা
লেখক বলেন, এই ঘটনাটা তাকে শিখিয়েছে যে, সুখ আসলে এমনই হয়। কোনো বড় রেস্তোরাঁর দামি ডেজার্টের চেয়েও সেই কয়েকশ ইয়েনের কনবিনি আইসক্রিমটিই ওই লোকের কাছে হাজার গুণ বেশি সুস্বাদু ছিল।
এই ছোট আনন্দটাই হয়তো তাকে সারাদিনের অফিসের চাপ বা ভিড় ট্রেনের কষ্ট সহ্য করার শক্তি দেয়। আমাদের সবারই এমন একটা 'কনবিনি আইসক্রিম' থাকে, তাই না? এমন কোনো ছোট জিনিস যা পয়সা দিয়ে মাপা যায় না, কিন্তু আমাদের মন ভালো করে দেয়। 😂 কারোর জন্য হয়তো সেটা এক কাপ কফি, বা কাজ শেষে পছন্দের কোনো গান শোনা।
কাউকে কিছু না বলে, নিজের জন্য ছোট একটা কিছু করা—এটাই হয়তো জাপানে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় উপায়।

Sign in to keep your name & data