কিডনি: আপনার শরীরের সবচেয়ে পরিশ্রমী কর্মচারী
আপনি যখন গভীর ঘুমে, তখনও আপনার শরীরের একজন কর্মী ওভারটাইম করছে কোনো অভিযোগ ছাড়াই।
এই নিঃশব্দ নায়কটা কে?
আপনার শরীরের ভেতরে একজোড়া কিডনি আছে, যারা হলো আসল ‘এন নো শিতা নো চিকারামোচি’ (縁の下の力持ち) — পর্দার আড়ালের শক্তি। এরা চুপচাপ, কোনো অভিযোগ ছাড়াই আপনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
এদের প্রধান কাজ হলো রক্ত ফিল্টার করে বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত জল প্রস্রাব হিসাবে বের করে দেওয়া। আপনি কি জানেন কিডনিতে প্রতিদিন কতটা রক্ত প্রবাহিত হয়? দিনে প্রায় ১৪০০ লিটার! সেখান থেকে প্রায় ১৮০ লিটার প্রাথমিক প্রস্রাব তৈরি হয়, যা আপনার বাড়ির বাথটাবের সমান। সবশেষে, শরীর প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আবার শোষণ করে নেয় এবং মাত্র ১-১.৫ লিটার চূড়ান্ত প্রস্রাব হিসেবে বেরিয়ে আসে। কী অসাধারণ ফিল্টারিং সিস্টেম! 🤔
যখন কিডনি ধর্মঘটে যায়
সমস্যা হলো, কিডনিকে বলা হয় ‘নীরব অঙ্গ’। এর কার্যক্ষমতা কিছুটা কমে গেলেও তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। যখন লক্ষণ প্রকাশ পায়, ততক্ষণে হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।
কিছু লক্ষণ যা দেখে আপনি সতর্ক হতে পারেন: প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা হওয়া যা সহজে মিলিয়ে যায় না, শরীরে জল জমে ফুলে যাওয়া, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা বা নিঃশ্বাসের কষ্ট। এমনকি ত্বকে চুলকানিও কিডনির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, কারণ বর্জ্য পদার্থ রক্তে জমে গিয়ে ত্বকে চুলকানির অনুভূতি তৈরি করে।
ভাবছেন শুধু বয়স্কদের হয়? একদমই না। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে যেকোনো বয়সেই কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করতে পারে। আর একবার খারাপ হলে, একে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।
তাহলে এখন কী করবেন?
জাপানে আমরা যারা থাকি, তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় হলো কোম্পানির বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা ‘কেনকো শিন্দান’ (健康診断) মিস না করা।
রিপোর্টে eGFR নামে একটি 항목 থাকে, যা কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা নির্দেশ করে। এই সংখ্যাটি ৬০-এর নিচে থাকলে চিন্তার বিষয়। পরেরবার যখন স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট পাবেন, ওটা শুধু ড্রয়ারে ফেলে না রেখে একবার চোখ বুলিয়ে নেবেন। আপনার এই পরিশ্রমী সহকর্মীর একটু যত্ন নেওয়া দরকার। 😥

Sign in to keep your name & data