ঘুম আসছে না? বিছানায় শুয়ে থাকাটাই হয়তো সমস্যা।
জাপানে মাঝরাতে ঘুম না এলে কী করেন? সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে আকাশ-পাতাল ভাবেন, তাই তো? 🤔
ব্যাপারটা কী?
টোকিও ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঘুম না এলে জোর করে বিছানায় শুয়ে থাকাটা একদম ভুল। এতে নাকি ভালোর চেয়ে খারাপই বেশি হয়।
যখন আপনি বিছানায় শুয়ে ফোন ঘাঁটেন, সিনেমা দেখেন বা কাজ করেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক গুলিয়ে ফেলে। সে ভাবে, 'ওহ, এটা তো কাজ করার বা মজা করার জায়গা, ঘুমানোর নয়'। ফলে, যখন সত্যিই ঘুমানোর দরকার হয়, তখন মস্তিষ্ক আর রিল্যাক্স করতে পারে না।
এই থিওরিকে বলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি (CBT)। আর আমেরিকার স্লিপ মেডিসিন অ্যাকাডেমি তো বলে, ঘুমের ওষুধের চেয়েও এটা বেশি কার্যকর।
তাহলে উপায়?
উপায়টা সহজ আবার কঠিনও। বিশেষ করে আমাদের মতো যারা জাপানের ছোট্ট এক কামরার ঘরে থাকি। বলা হচ্ছে, ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না এলে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ুন।
হ্যাঁ জানি, আপনার এক কামরার ঘরে আর কোথায় বা যাবেন। তবুও, বিছানা থেকে উঠে একটু শান্ত হয়ে বসুন। ফোন বা টিভি একদমই নয়। হালকা গান শুনতে পারেন বা বই পড়তে পারেন। যখন ঘুম ঘুম ভাব আসবে, তখন আবার বিছানায় যান।
মূল কথা হলো, মস্তিষ্ককে বোঝাতে হবে যে 'বিছানা মানে শুধু ঘুম'।
আর দিনের ঘুম?
দিনের বেলা একটু ঘুমিয়ে নেওয়া বা 'পাওয়ার ন্যাপ' বেশ কাজের। এতে নাকি কর্মক্ষমতা বাড়ে। তবে এরও নিয়ম আছে।
গবেষণা বলছে, ১০ থেকে ৩০ মিনিটের ন্যাপই সবচেয়ে ভালো। আর এই ঘুমটা বিছানায় শোবেন না। আপনার অফিসের ডেস্কে মাথা রেখে বা চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে নিন। এতে গভীর ঘুম আসবে না, আর উঠতেও সুবিধা হবে।
আরেকটা জরুরি কথা, রাতে ঘুমানোর ৭ ঘণ্টা আগে দিনের ঘুম সেরে ফেলতে হবে। যেমন, আপনি যদি রাত ১১টায় ঘুমান, তাহলে বিকেল ৪টার পর আর ন্যাপ নেওয়া চলবে না। এতে রাতের ঘুমের দফারফা হয়ে যাবে।

Sign in to keep your name & data