ডিপ্রেশনের ওষুধ লাগবে না? ডাক্তাররা যা বলছেন
ভাবা যায়, ডিপ্রেশনের ওষুধ আর মাইন্ডফুলনেস নাকি প্রায় একই রকম কাজ করে!
ব্যাপারটা কী?
আমি তো এতদিন জানতাম স্ট্রেস বা ডিপ্রেশন মানেই ডাক্তারের কাছে দৌড়ানো আর একগাদা ওষুধ গেলা। কিন্তু সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটা গবেষণার ফল দেখে তো আমি অবাক।
ওরা গুরুতর ডিপ্রেশনে ভুগছেন এমন রোগীদের দুটি দলে ভাগ করেছিল। এক দলকে আগের মতোই ওষুধ দেওয়া হয়েছে, আর অন্য দলের ওষুধ বন্ধ করে দিয়ে সপ্তাহে দুই ঘণ্টা ‘মাইন্ডফুলনেস’ থেরাপি দেওয়া হয়েছে।
আট সপ্তাহ পর প্রায় দুই বছর ধরে তাদের পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেল, দুটি দলের মধ্যে রোগের পুনরায় ফিরে আসার হারে তেমন কোনো পার্থক্যই নেই। মানে, একদল দুই বছর ধরে ওষুধ খেলো, আরেক দল শুধু শান্ত হয়ে বসে থাকলো, আর ফলাফল প্রায় একই! 🤯
কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব?
এর পোশাকি নাম ‘মাইন্ডফুলনেস কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি’। নাম শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটা মূলত আমেরিকান ‘কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি’ আর প্রাচ্যের ‘মাইন্ডফুলনেস’ বা ধ্যানের একটা মিশ্রণ।
বিষয়টা হলো, নিজের ভেতরের চিন্তাগুলোকে বিচার না করে শুধু পর্যবেক্ষণ করা। ধরুন, আপনার মাথায় একটা নেগেটিভ চিন্তা এলো, ‘আমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না’। সাধারণত আমরা এই চিন্তাটাকে সত্যি বলে ধরে নিই। কিন্তু মাইন্ডফুলনেস শেখায় চিন্তাটাকে শুধু একটা ‘চিন্তা’ হিসেবে দেখতে, এটাকে সত্যি বা মিথ্যা বলে বিচার না করতে।
জাপানে সারাদিন বসের ঝাড়ি, ট্রেনের ভিড় আর ভাঙা ভাঙা জাপানিজ বলতে বলতে মাথায় যে হাজারটা চিন্তা ঘোরে, সেগুলোকে একটু দূর থেকে দেখার অভ্যাস আরকি।
তাহলে এখন কী হবে?
আসলে, আমেরিকা বা ব্রিটেনের মতো দেশে এখন ওষুধের ব্যবহার কমানো হচ্ছে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার একটা ভয় তো আছেই। তাছাড়া রোগীরাও আজকাল প্রাকৃতিক সমাধান বেশি পছন্দ করছেন।
ব্রিটেনে তো এখন হালকা ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে, সরকারিভাবেই ওষুধের আগে মাইন্ডফুলনেস থেরাপির কথা ভাবা হয়।
তার মানে এই না যে কাল থেকে ডিপ্রেশনের ওষুধ ফেলে দেবেন। কিন্তু পরেরবার যখন মনে হবে জাপানের এই জীবনে মাথাটা আর কাজ করছে না, তখন হয়তো কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করে নিজের নিশ্বাস গোনাটাও একটা কাজের কাজ হতে পারে।

Sign in to keep your name & data