← HoraYaba
কেন কিছু লোক সহজে অসুস্থ হয় না
entertainment·40d

কেন কিছু লোক সহজে অসুস্থ হয় না

আপনার অফিসের সেই লোকটা, যে কোনোদিনও অসুস্থ হয় না? এর পেছনের কারণটা কিন্তু ভিটামিন সি না।

ব্যাপারটা কী?

আমাদের সবারই অফিসে বা বন্ধুদের মধ্যে এমন একজন থাকে, যাকে দেখে মনে হয় তার শরীরটা পাথরের মতো শক্ত। সবাই যখন সর্দি-কাশিতে কাবু, সে তখন দিব্যি সুস্থ। আমরা ভাবি, “এর জন্মগতভাবেই ইমিউনিটি বেশি” বা “ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেনি”।

কিন্তু আসল সত্যিটা হলো, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া আমাদের সবার শরীরেই প্রতিদিন ঢুকছে। আমরা নিঃশ্বাসের সাথেও কত রোগজীবাণু নিচ্ছি। যারা অসুস্থ হয় না, তারা যে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে না, তা কিন্তু নয়। তাদের শরীর শুধু ভেতরে আসা জীবাণুদেরকে খুব тихо এবং দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলে।

অর্থাৎ, অসুস্থ হওয়া বা না হওয়াটা নির্ভর করে শরীরে ভাইরাস ঢুকেছে কি না তার ওপর নয়, বরং শরীর সেই ভাইরাসের সাথে কীভাবে মোকাবিলা করছে তার ওপর। জ্বর, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া – এগুলো আসলে শরীর যখন জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করে, তখনকার লক্ষণ।

এর পেছনের আসল খেলোয়াড়

এখানেই আসে মাইটোকন্ড্রিয়ার (mitochondria) কথা। এটা হলো আমাদের কোষের ভেতরের ‘পাওয়ার স্টেশন’, যা শরীরের সমস্ত শক্তি তৈরি করে। ইমিউন কোষগুলো যখন জীবাণু খুঁজে বের করে, তাদের সাথে লড়াই করে, তখন প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। আর এই শক্তি জোগান দেয় মাইটোকন্ড্রিয়া।

যাদের মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তিশালী, তাদের ইমিউন কোষগুলোও খুব কর্মঠ হয়। তারা ভাইরাসকে শুরুতেই ধরে ফেলে এবং অল্পতেই ঝামেলা মিটিয়ে দেয়। ফলে, শরীরে বড় কোনো প্রদাহ বা লক্ষণ দেখা দেয় না। বাইরে থেকে দেখে মনে হয়, কিছুই হয়নি।

অন্যদিকে, যাদের মাইটোকন্ড্রিয়া দুর্বল, তাদের ইমিউন কোষগুলো দেরিতে কাজ শুরু করে। আর সেই দেরি পুষিয়ে নিতে গিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়, যার ফলে জ্বর-সর্দির মতো তীব্র লক্ষণ দেখা দেয় এবং সারতে অনেক সময় লাগে। এটাকে “দুর্বল ইমিউনিটি” না বলে “অদক্ষ ইমিউনিটি” বলাই ভালো।

তাহলে আমাদের কী করণীয়?

বয়সের সাথে সাথে মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা কমে যায়, এটা সত্যি। কিন্তু ভালো খবর হলো, এটাকে আবার সক্রিয় করা যায়। এর জন্য খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই।

প্রথমত, ব্যায়াম। বিশেষ করে একটু দ্রুত হাঁটা (brisk walking)। যেমন, স্টেশন থেকে বাসায় ফেরার সময় বা লাঞ্চের পর একটু দ্রুত পায়ে হাঁটা। এতে মাইটোকন্ড্রিয়া সক্রিয় হয় এবং সংখ্যাতেও বাড়ে।

দ্বিতীয়ত, কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান। যেমন, কো-এনজাইম কিউ-১০ (Coenzyme Q10), ভিটামিন বি গ্রুপ, এল-কার্নিটিন (L-carnitine), এবং টাউরিন (Taurine)। জাপানের ড্রাগস্টোরগুলোতে (ドラッグストア) এগুলো সাপ্লিমেন্ট হিসেবে সহজেই পাওয়া যায়। ব্যস্ত জীবনে খাবারের মাধ্যমে সবকিছুর জোগান দেওয়া কঠিন হলে, এগুলো সাহায্য করতে পারে। 😅

সুতরাং, পরের বার যখন দেখবেন আপনার জাপানি সহকর্মীটি ঠান্ডার মৌসুমেও দিব্যি সুস্থ আছে, তখন বুঝে নেবেন এর পেছনে হয়তো এই মাইটোকন্ড্রিয়ারই কারসাজি।

LINEFacebook
Comments

Say something — anonymous, no sign-up 👇

Sign in to keep your name & data