আপনার রোজকার কফিই ঠিক করছে আপনি মোটা হবেন না রোগা।
সকালে কনবিনি থেকে যে কফিটা কেনেন, ওটাই আপনার ওজন কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিচ্ছে না তো?
কফি: বন্ধু না শত্রু?
আমি তো ভাবতাম কফি মানেই ফ্যাট বার্ন হবে, আর আমি এক কাপের পর এক কাপ খেয়েই যাচ্ছি। কিন্তু জাপানের এক ডাক্তার বলছেন, আমাদের এই রোজকার কফি পানের অভ্যাসেই লুকিয়ে আছে মোটা বা রোগা হওয়ার আসল রহস্য। ☕
কালো কফি, মানে চিনি ছাড়া যেটা, তাতে প্রায় কোনো ক্যালোরিই নেই। উল্টে এর মধ্যে থাকা ক্যাফেইন আর ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড নাকি মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি গলাতে সাহায্য করে। তাই 'কফি ডায়েট' কথাটা এত জনপ্রিয়।
এমনকি আপনার প্রিয় ডন কিহোতে থেকে কেনা ইনস্ট্যান্ট কফিও কাজ করবে। হয়তো ড্রিপ কফির মতো অতটা কার্যকরী নয়, কিন্তু ক্যাফেইন তো আছে!
তাহলে গোলমালটা কোথায়?
গোলমালটা হচ্ছে আমরা যেভাবে কফি পান করি। ওই যে জিদোহানবাইকি (vending machine) থেকে BOSS কফির ক্যানটা তুলে নিলেন, বা স্টারবাকসের নতুন ফ্রাপুচিনোটা হাতে নিয়ে একটা ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করলেন—ওগুলোর বেশিরভাগটাই তো চিনি আর সিরাপ! 🤦
আবার ধরুন, কফির সাথে একটা মেলন-পান বা কনবিনির কোনো মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস। কিংবা খালি পেটে মিষ্টি কফি খেয়েই কাজে দৌড়ানো। এতে ব্লাড সুগার হঠাৎ করে বেড়ে যায়, আর শরীর আরও বেশি করে চর্বি জমাতে শুরু করে।
সবচেয়ে বড় ভুল হলো, রাতের শিফট সেরে বাড়ি ফিরে ক্লান্তি দূর করতে কফি পান করা। এতে ঘুম নষ্ট হয়, আর ঘুম ভালো না হলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
‘সঠিক’ জাপানি স্টাইল
ডাক্তার বলছেন, ওজন কমাতে চাইলে কফি পান করতে হবে ঠিক সময়ে। যেমন, খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে অথবা ব্যায়াম করার ৩০ মিনিট আগে। এতে ফ্যাট বার্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
চেষ্টা করুন চিনি ছাড়া কালো কফি পান করতে। যদি একান্তই না পারেন, তাহলে সয়াবিনের দুধ (豆乳 - tounyuu) বা লো-ফ্যাট দুধ সামান্য মেশাতে পারেন।
আর একটা কথা, দিনে ৩-৪ কাপের বেশি নয়। যদি দেখেন বুক ধড়ফড় (doki doki) করছে বা ঘুম আসছে না, তাহলে বুঝবেন পরিমাণটা একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে। নিজের শরীরের কথা শুনুন, কারণ সবার শরীর একরকম হয় না।

Sign in to keep your name & data