জাপানের টিনএজারদের স্বপ্ন: ইউটিউবার থেকে সরকারি কর্মচারী
জাপানের হাই স্কুল পড়ুয়াদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন কী জানেন? সরকারি কর্মচারী হওয়া।
ছোটদের স্বপ্ন
সম্প্রতি সনি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এক জরিপে জাপানের কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মজার কিছু তথ্য উঠে এসেছে। জুনিয়র হাই স্কুলের ছেলেদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, বড় হয়ে আইটি ইঞ্জিনিয়ার বা ইউটিউবার হতে চায়। কেউ আবার কোম্পানির মালিক বা পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে।
মেয়েদের স্বপ্নগুলোও বেশ রঙিন। গায়িকা, অভিনেত্রী, বিউটিশিয়ান বা ডিজাইনার—এইসব তাদের পছন্দের পেশা। একদম আধুনিক সময়ের ছেলেমেয়েদের মতোই চিন্তা ভাবনা, তাই না?
তারপর যা হয়
কিন্তু মজাটা শুরু হয় হাই স্কুলে ওঠার পর। যেই না কৈশোরের উত্তেজনা একটু থিতিয়ে আসে, অমনি ছেলে-মেয়ে উভয়েরই এক নম্বর স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়—সরকারি কর্মচারী (公務員) হওয়া।
কারণটা শুনলে এখানকার প্রবাসীরা হয়তো একটু মুচকি হাসবেন। জরিপে উত্তর এসেছে: "চাকরি যাওয়ার ভয় নেই", "福利厚生 (ফুকুরি কোসেই) বা সুযোগ-সুবিধা ভালো", "স্থিতিশীল বেতন"। মনে হচ্ছে যেন ১৬ বছর বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাদের কাঁধে চেপে বসেছে। 😂
বিয়ে এবং পরিবার
এই বাস্তববাদী চিন্তা শুধু ক্যারিয়ারেই সীমাবদ্ধ নেই। বিয়ে করা বা সন্তান নেওয়ার ব্যাপারেও আগ্রহ কমছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে। হাই স্কুলের ৩০% মেয়ে সরাসরি বলে দিয়েছে, তারা বাচ্চা নিতেই চায় না।
ছেলেদের অবশ্য মেয়েদের তুলনায় বিয়ে বা সংসার করার শখ কিছুটা বেশি। কিন্তু সামগ্রিকভাবে, এই প্রবণতা নিম্নমুখী।
তবে বাঁচার রসদ?
এত হিসাব-নিকাশের মাঝে তাদের আনন্দের উৎস কী? ছেলেদের জন্য সেটা হলো গেম, বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর গান শোনা। আর মেয়েদের জন্য? গান, "ওশি-কাৎসু" (推し活 - নিজের পছন্দের আইডল বা তারকাকে সাপোর্ট করা), এবং ঘুম। হ্যাঁ, ঘুম তাদের জীবনে আনন্দের একটি বড় উৎস।
আর নিজেদের মধ্যে তারা কিছু অদ্ভুত শব্দ ব্যবহার করে, যেমন "ওয়াহো" (ワホー)। কোনো কিছুতে খুব উত্তেজিত হলে নাকি এটা বলে। আমি তো আজ প্রথম শুনলাম, আপনি শুনেছেন নাকি?

Sign in to keep your name & data