বুদ্ধিমান লোকেরা কেন একা থাকতে ভালোবাসে?
জাপানে একা থাকেন? তার মানে এই না যে আপনি নিঃসঙ্গ, হয়তো আপনি একজন জিনিয়াস।
কী ব্যাপার?
আমি সেদিন জাপানের এক নিউজ সাইট ‘ডায়মন্ড অনলাইন’-এ একটা অদ্ভুত লেখা পড়ছিলাম। লেখাটা দার্শনিক শোপেনহাওয়ারের (Schopenhauer) একটা তত্ত্ব নিয়ে। তত্ত্বটা হলো: “যাদের বুদ্ধিমত্তা বেশি, তারা একা থাকতে পছন্দ করে, আর যাদের বুদ্ধিমত্তা কম, তারা ভিড়ের মধ্যে থাকতে চায়।”
শুনে প্রথমে একটু অবাক হলাম। জাপানে এসে প্রথম প্রথম যখন বন্ধু-বান্ধব ছিল না, কোণায় বসে একা একা কনবিনির ওনিগিরি খেতাম, তখন তো নিজেকে বেশ দুঃখী মনে হতো। এখন শুনছি, ওটা নাকি বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ! 🤔
কেন এমন হয়?
শোপেনহাওয়ারের মতে, ব্যাপারটা হলো ‘ভেতরের জগৎ’ কতটা সমৃদ্ধ, তার ওপর নির্ভর করে। বুদ্ধিমান লোকদের নাকি নিজেদের ভেতরেই চিন্তাভাবনা, কল্পনা আর কৌতূহলের একটা বিশাল জগৎ থাকে। তাই তাদের বাইরের উত্তেজনার প্রয়োজন পড়ে না। তারা নিজেদের ৬-তাতামি ম্যাটের ছোট্ট ঘরে বসেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারে, বোর হয় না।
অন্যদিকে, যাদের ‘ভেতরের জগৎ’ খালি, তাদের সবসময় বাইরের কিছু একটা লাগে। পার্টি, আড্ডা, গ্যাদারিং—এগুলো ছাড়া তাদের দম বন্ধ হয়ে আসে। সোজা কথায়, সামাজিক হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নাকি ভেতরের শূন্যতারই প্রতিফলন।
তাহলে কি আমি একজন জিনিয়াস?
এখন ভেবে দেখুন তো, সারাদিন ফ্যাক্টরিতে বা অফিসে হাড়ভাঙা খাটুনির পর আপনার কি шум করে ইজাকায়ায় যেতে ইচ্ছে করে, নাকি নিজের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে শান্তিতে নেটফ্লিক্স দেখতে ভালো লাগে? ট্রেনে ভিড়ের মধ্যে সবার থেকে আলাদা হয়ে নিজের মনে কিছু ভাবতে কি ভালো লাগে?
যদি আপনার একা থাকতে ভালো লাগে, তাহলে নিজেকে অসামাজিক ভেবে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। হয়তো আপনার ভেতরের জগৎটা বেশ গুছানো। আর যদি একা থাকলে 불안 বা অস্বস্তি হয়, তার মানে এই না যে আপনি বোকা। এর মানে হলো, আপনার ভেতরের জগৎটাকে আরও সুন্দর করে সাজানোর সুযোগ আছে। বই পড়া বা নতুন কিছু নিয়ে চিন্তা করার মাধ্যমে এটা করা যেতে পারে।
পরের বার যখন কেউ আপনাকে এমন কোনো পার্টিতে ডাকবে যেখানে আপনার যেতে ইচ্ছে করছে না, তখন মনে মনে বলতে পারেন, “দুঃখিত, আমার ভেতরের জগৎটা এখন খুব ব্যস্ত।” 😂

Sign in to keep your name & data