জাপানে ডিভোর্সি পুরুষদের এত ডিমান্ড কেন?
জাপানে আজকাল ডিভোর্সি বা 'বাৎসুইচি' পুরুষরা নাকি অবিবাহিতদের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন।
ব্যাপারটি কী?
জাপানের একটি বিখ্যাত ম্যাগাজিন 'SPA!'-এর একটি আর্টিকেলে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। একজন লাভ কনসালট্যান্ট, ইয়ামামোতো সাওরি, বলছেন যে ডিভোর্সের ইতিহাস থাকাটা এখন আর কোনো মাইনাস পয়েন্ট নয়। বরং, এটি এমন একটি 'শক্তি' যা অবিবাহিত পুরুষদের নেই।
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এই ধারণাটি জাপানে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। যেখানে ভাবা হয় যে একবার বিয়ে ভেঙে গেলে আর হয়তো সুযোগ নেই, সেখানে জাপানের ডেটিং বা 'কোনকাৎসু' জগতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ডিভোর্সের অভিজ্ঞতা থাকা পুরুষদের নাকি মহিলারা এখন বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন। 🤔
এক ব্যক্তির সত্যি ঘটনা
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে সুগুরু-সান (ছদ্মনাম, ৪১ বছর) নামের এক ব্যক্তির কথা। ভদ্রলোক ৩৮ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো প্রেমই করেননি। অনেক চেষ্টার পর বিয়ে করলেও, মাত্র এক মাসের মধ্যে মতের অমিলের কারণে ডিভোর্স হয়ে যায়।
এরপর যখন তিনি আবার সঙ্গী খোঁজা শুরু করেন, তখন ঘটলো অবাক করার মতো ঘটনা। প্রথমবার যেখানে মেয়ে পাওয়াই কঠিন ছিল, সেখানে ডিভোর্সি হওয়ার পর তার কাছে বিয়ের প্রস্তাবের লাইন লেগে যায়! অথচ তার প্রোফাইলের অন্য কোনো শর্ত বদলায়নি, বরং 'ডিভোর্সি' তকমা যুক্ত হয়েছিল।
আসল কারণটা কী?
বিশেষজ্ঞের মতে, জাপানি মহিলাদের কাছে ডিভোর্সের ইতিহাস থাকাটা এক ধরনের 'গ্যারান্টি সার্টিফিকেট'-এর মতো কাজ করে। এর মানে হলো, এই পুরুষটি অন্তত একবার অন্য কারো সাথে জীবন কাটানোর যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিলেন। অর্থাৎ, তার মধ্যে মানিয়ে চলার মতো গুণাবলী আছে।
অন্যদিকে, বেশি বয়সী অবিবাহিত পুরুষদের দেখলে অনেক মহিলার মনে সন্দেহ জাগে, "এত বয়স হলো, এখনো বিয়ে করেনি কেন? নিশ্চই ওর মধ্যে বড় কোনো সমস্যা আছে!"। কিন্তু ডিভোর্সি পুরুষের ক্ষেত্রে এই চিন্তাটা থাকে না। বরং অতীতের ভুল থেকে শেখার অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত করে তোলে।
সুগুরু-সানের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং তিনি আগের চেয়ে ভালোভাবে মেয়েদের সাথে কথা বলতে পারছিলেন। ফলস্বরূপ, মাত্র ৯ মাসের মধ্যে তিনি আবার বিয়ে করে ফেলেন।
অতএব, জাপানে এখন ডিভোর্সকে আর 'ব্যর্থতা' হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং 'অভিজ্ঞতা' হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

Sign in to keep your name & data