জাপানে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট? আগে মাসিক আয়টা দেখে নিন।
জাপানে PR পেতে হলে নাকি এখন থেকে মাসে প্রায় ৪ লাখ ৭৯ হাজার ইয়েন আয় করতে হবে। 🥲
ব্যাপারটা কী?
জাপান সরকার পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা 永住権 (এইজুকেন) পাওয়ার নিয়মকানুন আরও কঠিন করার কথা ভাবছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারীর বার্ষিক আয় জাপানি পরিবারের গড় আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে।
ভাবছেন, সেটা আবার কত? স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় (厚生労働省) এর হিসাব অনুযায়ী, জাপানে একটি পরিবারের গড় বার্ষিক আয় হল ৫৭ লক্ষ ৫২ হাজার ইয়েন। মানে, মাসে প্রায় ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ইয়েন। হ্যাঁ, আমার মতো আপনারও যদি অঙ্কটা দেখে মাথা ঘুরে গিয়ে থাকে, তাহলে আপনি একা নন।
তবে এই মাসিক আয় কি আবেদনকারীকে একাই করতে হবে, নাকি স্বামী/স্ত্রী সহ পুরো পরিবারের আয় মিলিয়ে, সেই বিষয়ে এখনো কিছু পরিষ্কার করে বলা হয়নি। জাপানের চিরচেনা ধোঁয়াশা আরকি। আপাতত আমরা সবাই মিলে অপেক্ষা করি আর প্রার্থনা করি।
শুধু টাকা হলেই চলবে?
আপনার যদি মনে হয় শুধু মোটা মাইনের চাকরি থাকলেই কেল্লাফতে, তাহলে ভুল ভাবছেন। টাকার পাশাপাশি আপনার ভবিষ্যৎ জীবনের আর্থিক সক্ষমতাও তারা খতিয়ে দেখবে। মানে, আপনার বৃদ্ধ বয়সের চিন্তাও এখন থেকে জাপান সরকার করবে।
নিয়মটা হলো, আপনি জাপানের厚生年金 (কোসেই নেনকিন) ৩০ বছর ধরে দিলে যে পরিমাণ পেনশন পেতেন, আপনার আনুমানিক পেনশন সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে কিনা, তা পরীক্ষা করা হবে। আমি তো ভাবছি কালকের ডিনার কী দিয়ে করব, আর ওনারা ভাবছেন ৩০ বছর পরের আমার পেনশনের কথা। 😂
যদি আপনার পেনশনের পরিমাণ কম হয়, তাহলেও উপায় আছে। আপনার ব্যাংকে জমানো টাকা, শেয়ার মার্কেটের বিনিয়োগ বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ দেখিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, জাপানি ভাষার দক্ষতা, এখানকার নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা, এমনকি আপনার বাচ্চার স্কুলে যাওয়ার বিষয়গুলোও নাকি যাচাই করার তালিকায় যুক্ত হতে পারে।
এখন আমাদের কী হবে?
সরকারের এই কড়াকড়ির কারণ হলো, ইদানিং কিছু পার্মানেন্ট রেসিডেন্টধারী বিদেশী 生活保護 (সেইকাতসু হোগো) বা সরকারি জীবনধারণ ভাতার জন্য আবেদন করছেন। তাই সরকার চাইছে, যারা দীর্ঘমেয়াদে এখানে থাকবেন, তারা যেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হন।
এই নতুন নিয়ম কবে থেকে চালু হবে তা নিয়েও বেশ বিভ্রান্তি আছে। কোনো পত্রিকা বলছে আয়ের নিয়মটা এই বছরের অক্টোবর থেকে, আবার কেউ বলছে এপ্রিল মাস থেকে জমা দেওয়া আবেদনপত্রের ওপর এটা ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়ে গেছে।
আপাতত আমাদের মতো সাধারণ প্রবাসীদের জন্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কীই বা করার আছে। যাই হোক, পরের মাসের বাড়ি ভাড়ার টাকাটা আগে জোগাড় করি, এইজুকেনের স্বপ্নটা নাহয় আরেকটু দেরিতেই দেখা যাবে।

Sign in to keep your name & data