ডাক্তার না সিইও? জাপানি ধনী স্বামীদের 'গাইডবুক'
জাপানি ম্যাগাজিনে দেখলাম কীভাবে ধনী জামাই 'শিকার' করতে হয়, একটা পুরো 'গাইড ম্যাপ' আছে।
এই 'গাইড ম্যাপ'-এ কী আছে?
জাপানের এক ম্যাগাজিনে দেখলাম, হাই-স্পেক বা উচ্চ-আয়ের ছেলেদের বিয়ে করার জন্য নাকি স্ট্র্যাটেজি লাগে। এমনি এমনি অ্যাপ্রোচ করলে হবে না। এক বিশেষজ্ঞ, যিনি নাকি এমন অনেক বিয়ে দিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন পেশার ছেলেদের জন্য আলাদা আলাদা ‘গাইড ম্যাপ’ তৈরি করেছেন। ব্যাপারটা বেশ মজার। 😂
ব্যাপারটা হলো, সব ধনী ছেলেই একরকম হয় না। ডাক্তার, কোম্পানির মালিক বা বিদেশি কোম্পানিতে কাজ করা বড় চাকুরে—সবার নাকি পছন্দ-অপছন্দ আলাদা। তাই সঠিক তথ্য না জেনে মাঠে নামলে সব চেষ্টাই নাকি জলে যাবে।
পেশা অনুযায়ী টার্গেট করুন
প্রথমেই আসা যাক ডাক্তারদের কথায়। এঁরা নাকি পাত্রীর পরিবার, বংশ, পেশা, পড়াশোনা—এইসব খুব খুঁটিয়ে দেখেন। ডাক্তার নিজে যদি বলেন "আমার এসবে কিছু যায় আসে না", তাহলেও নাকি তার বাবা-মা ছাড়বেন না। তাই নিজের পারিবারিক অবস্থা নিয়ে আত্মবিশ্বাস না থাকলে, প্রথম থেকেই ডাক্তারদের টার্গেট লিস্ট থেকে বাদ দেওয়াই ভালো।
এরপর হলো কোম্পানির মালিক বা সিইও। এখানে দুটো ভাগ আছে। যাদের পারিবারিক ব্যবসা, তাদের চাহিদা ডাক্তারদের মতোই। কিন্তু যারা নিজে খেটে কোম্পানি দাঁড় করিয়েছে, তাদের হিসাবটা একদম আলাদা। তাদের পছন্দ সুন্দরী এবং কমবয়সী মেয়ে। অথবা এমন মেয়ে যার কোনো বিশেষ গুণ আছে। যেমন, ছেলেটা হয়তো ইংরেজি পারে না, কিন্তু মেয়েটা சரলভাবে বলতে পারে। অথবা মেয়েটা হয়তো দারুণ পিয়ানো বাজায়। মানে, এমন কিছু যা তাদের নিজেদের নেই।
আর যারা বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি করে আর প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকে, তারা নাকি এমন একজন স্ত্রী চায় যে ঘরের সব দায়িত্ব সামলে নিতে পারবে। সোজা কথায়, একজন নিখুঁত গৃহিণী।
আসল কথা হলো 'চরিত্র'
ভাবছেন, "আমি তো অত সুন্দরী নই, আমার কী হবে?" লেখকের মতে, এটা নাকি একদম ভুল ধারণা। আসল সমস্যা সৌন্দর্য নয়, আসল সমস্যা হলো 'চরিত্র'।
সবচেয়ে বড় 'না' হলো সেইসব মেয়েদের জন্য, যারা নিজের মেজাজ নিজে সামলাতে পারে না। এই ধরনের মেয়েরা যতই সুন্দরী হোক না কেন, বিয়ের কথা উঠলেই নাকি ছেলেরা পিছিয়ে যায়। যেমন, সপ্তাহে একদিন দেখা করা সত্ত্বেও মেসেজের রিপ্লাই কেন আসছে না, এই নিয়ে অশান্তি করা। বা "তুমি কি সত্যি আমাকে ভালোবাসো?"—এই ধরনের প্রশ্ন করে পুরুষদের বিরক্ত করা। নিজের একাকীত্ব দূর করার জন্য আরেকজনের উপর নির্ভরশীল হওয়াটাকেই নাকি ধনী ছেলেরা সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে।
টাকা না ভালোবাসা?
অনেকেই চায় স্বামী অনেক টাকা আয় করুক, আবার আমাকে সময়ও দিক, আমার সব কথা মন দিয়ে শুনুক। কিন্তু লেখকের মতে, এই দুটো জিনিস একসাথে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। যে লোক দিনরাত খেটে ২০ মিলিয়ন ইয়েন আয় করছে, তার কাছে প্রতিদিন একসাথে ডিনার করার আশা করাটা অবাস্তব।
তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো, আগে ঠিক করুন আপনি কী চান। যদি নিজের লাইফস্টাইল আর মানসিক শান্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে হাই-স্পেক ছেলের আশা ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তবে, লেখকের ব্যক্তিগত মত হলো, টাকাটাই আসল। কারণ বিয়ের পর এমন অনেক সমস্যা আসে যা টাকা ছাড়া শুধু 'ভালোবাসা' বা 'সহানুভূতি' দিয়ে সমাধান করা যায় না। কী কঠিন বাস্তবতা!

Sign in to keep your name & data