মাত্র ৭ ঘণ্টা ঘুম? মানুষ নাকি প্রাইমেটদের মধ্যে সবচেয়ে কম ঘুমায়!
বিজ্ঞানীরা বলছেন মানুষের নাকি দিনে মাত্র ৭ ঘণ্টা ঘুমালেই চলে, যা অন্য সব প্রাইমেটদের চেয়ে কম।
ব্যাপারটা কী?
ভাবছেন, "মাত্র ৭ ঘণ্টা? আমার তো ১০ ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্তি কাটে না!" ঠিক এইখানেই মজাটা। বিজ্ঞানীরা আমাদের এই ঘুমকে বলেন "Human Sleep Paradox"।
শরীরের এবং মস্তিষ্কের আকার অনুযায়ী, আমাদের মতো প্রাণীর দিনে প্রায় ৯.৫ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু আমরা ঘুমাই গড়ে মাত্র ৭ ঘণ্টা। যেখানে বেবুন, লেমুর বা অন্য বানরদের মস্তিষ্ক আমাদের চেয়ে অনেক ছোট, তারাও আমাদের থেকে বেশি ঘুমায়। অথচ তারা ঘুমায় গাছের ডালে, যেখানে সারারাত বিপদের ভয়।
কেন আমরা এত দক্ষ?
এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো নিরাপত্তা। আমাদের পূর্বপুরুষরা একা একা গাছের ডালে নয়, দল বেঁধে আগুনের পাশে বা গুহায় ঘুমাতেন। এই নিরাপত্তা তাদের নিরবচ্ছিন্ন ও গভীর ঘুমের সুযোগ করে দিয়েছিল।
ফলে, আমাদের ঘুম অনেক বেশি কার্যকরী বা efficient হয়ে ওঠে। অল্প সময়েই শরীর ও মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পেয়ে যায়। আমাদের ঘুমের একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে REM (Rapid Eye Movement) sleep, যা স্মৃতিশক্তি আর আবেগ নিয়ন্ত্রণের জন্য খুব জরুরি। অন্য প্রাইমেটদের তুলনায় আমাদের ঘুমের মধ্যে REM-এর পরিমাণ অনেক বেশি। সোজা কথায়, আমরা কম ঘুমিয়েও বেশি কাজ সেরে ফেলি।
গল্পের শেষ নয়
অবশ্যই, এই তত্ত্ব নিয়েও কিছু প্রশ্ন আছে। যেমন, প্রাইমেটদের ঘুমের বেশিরভাগ তথ্যই চিড়িয়াখানায় থাকা প্রাণীদের থেকে নেওয়া। সেখানে তো আর শিকারীর ভয় নেই, তাই তাদের ঘুমের ধরন কতটা আসল আর কতটা চিড়িয়াখানার আরামের ফল, তা বলা মুশকিল।
এছাড়াও, শরীরের আকারও একটা ব্যাপার। সাধারণত, বড় প্রাণীরা ছোট প্রাণীদের চেয়ে কম ঘুমায়, যেমন হাতি ইঁদুরের চেয়ে অনেক কম ঘুমায়। কিন্তু এই হিসেবেও মানুষ ঠিক খাপ খায় না। আমাদের আকার অনুযায়ী যা ঘুমানোর কথা, তার চেয়ে আমরা কম ঘুমাই।
তাই পরের বার যখন ৭ ঘণ্টা ঘুম থেকে উঠে জাপানের কনবিনির দিকে দৌড়াবেন কফির জন্য, তখন মনে রাখবেন, আপনি হয়তো ক্লান্ত, কিন্তু বিবর্তনের হিসেবে আপনি একজন স্লিপিং চ্যাম্পিয়ন। 😴

Sign in to keep your name & data