অজান্তেই অন্যকে অস্বস্তিতে ফেলার প্রধান কারণ
জাপানে কারও সাথে কথা বলার আগে কি আপনার মনে হয়, “কোন উত্তরটা দিলে ঠিক হবে”?
ব্যাপারটা কী?
নতুন কারো সাথে কথা বলার সময়, অফিসের মিটিং-এ, বা বসের সামনে কিছু বলতে গেলেই আমাদের অনেকের গলা শুকিয়ে আসে। মাথায় হাজারটা চিন্তা, “এই কথাটা বললে ঠিক হবে তো?”, “আমি কি কোনো অদ্ভুত কথা বলে ফেলছি?”, “লোকে কী ভাববে?”
একটা জাপানি বই, 『言語化だけじゃ伝わんない』 (শুধু মুখে বললেই মনের ভাব প্রকাশ পায় না), এই অবস্থাকে বলছে “পরীক্ষার টেনশন”। ঠিক যেন পরীক্ষার হলে বসে আছি, আর উত্তরপত্রের দিকে তাকিয়ে ভাবছি সঠিক উত্তরটা কী হবে। এই ইতস্তত করতে করতেই সময় শেষ, আর যা বলার ছিল তা আর বলা হয় না।
কেন এমন হয়?
সমস্যাটা কিন্তু শব্দভাণ্ডারের অভাব নয়। আসল কারণ হলো, আমাদের মনে হতে থাকে যে আমাদের প্রতিটি কথা বিচার করা হচ্ছে। আমরা ভুল কিছু বলে বোকা প্রমাণিত হতে চাই না। তাই কথা বলার আগেই আমাদের মনে একটা ফিল্টার বসে যায়।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই কাজটা শুধু আমরা একাই করি না। আমরাও অবচেতনভাবে অন্যদের “পরীক্ষা” নিই। নতুন কারো সাথে আলাপ হলে, আমরাও তাকে মাপার চেষ্টা করি – “লোকটা তো বেশ ভালো”, বা “একটু অন্যরকম মনে হলো”। আমরা একে অপরকে বিচার করছি, আর এই কারণেই সাধারণ কথোপকথনও একটা পরীক্ষার মতো কঠিন আর চাপযুক্ত হয়ে ওঠে। জাপানে তো এটা আরও বেশি, যেখানে প্রতিটি কথার মধ্যে বিনয় (謙遜) আর পরিস্থিতি বোঝার (空気を読む) একটা অদৃশ্য চাপ থাকে।
তাহলে সমাধান কী?
বইটি বলছে, যারা অজান্তেই অন্যদের অস্বস্তিতে ফেলে, তাদের প্রধান সমস্যা হলো তারা কথোপকথনকে পরীক্ষার মতো দেখে। তারা এমনভাবে প্রশ্ন করে বা কথা বলে যেন কোনো “সঠিক উত্তর” খুঁজছে।
এর থেকে বের হওয়ার উপায় হলো মানসিকতার পরিবর্তন। কথোপকথন কোনো পরীক্ষা নয়, আর আপনিও পরীক্ষার্থী নন। এখানে কোনো পাশ-ফেল নেই। এর আসল উদ্দেশ্য হলো একে অপরকে জানা, নম্বর পাওয়া নয়। এই সহজ সত্যিটা মেনে নিতে পারলেই দেখবেন, “সঠিক উত্তর” খোঁজার চাপ কমে গেছে। তখন আর কেগো (敬語) ভুল হওয়ার ভয়ে চুপ করে থাকতে হবে না। কথাবার্তা অনেক সহজ আর স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। 😅
