আপনার শরীরে গন্ধ আছে? কান পরীক্ষা করলেই হবে
কখনো ভেবেছেন জাপানিদের গায়ে পারফিউমের বদলে শুধু সাবানের গন্ধ কেন আসে?
আসল ব্যাপারটা কী?
জাপানে আসার পর আমার প্রায়ই মনে হতো এখানকার লোকজন ডিওডোরেন্ট তেমন একটা ব্যবহার করে না। ড্রাগস্টোরে গেলেও দেখবেন ডিওডোরেন্টের তাকগুলো কেমন যেন ছোট আর দুর্বল চেহারার সব পণ্য দিয়ে ভরা।
আসল কারণটা লুকিয়ে আছে আমাদের জিনে। ABCC11 নামের একটি জিনই ঠিক করে দেয় আমাদের কানের ময়লা শুকনো হবে নাকি ভেজা, আর সেই সাথেই ঠিক হয় গায়ে গন্ধ হবে কি না।
যাদের কানের ময়লা শুকনো আর ঝরঝরে, তাদের শরীরে ঘামের গন্ধ হয় না। আর যাদের কানের ময়লা ভেজা ও আঠালো, তাদের শরীরে গন্ধ হয়। ব্যাপারটা এতই সহজ।
কার কান শুকনো, কার ভেজা?
এই শুকনো কানের জিনটি পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে, যেমন জাপান, কোরিয়া, আর চীনে খুব বেশি দেখা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১০০% কোরিয়ান আর ৮০-৯৫% জাপানিদের কানের ময়লা শুকনো।
এই কারণেই জাপানের ট্রেনে বা গরমে গাদাগাদি ভিড়ের মাঝেও আপনি পাশের মানুষটির গা থেকে ঘামের গন্ধ খুব একটা পাবেন না। এটা তাদের পরিষ্কার থাকার চেষ্টার চেয়েও বেশি কিছু, এটা তাদের জেনেটিক্স।
অন্যদিকে, আফ্রিকান এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে ভেজা কানের জিনটিই বেশি। আর আমরা বাঙালিরা? আমাদের বেশিরভাগেরই কানের ময়লা ভেজা, তাই ঘামলে গন্ধ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। 😅
তাহলে এখন উপায়?
নিজেরটা পরীক্ষা করতে চান? একটা কটন বাড ব্যবহার করলেই বুঝে যাবেন আপনারটা কোন দলের।
যদি তাতেও সন্দেহ থাকে, তাহলে একটা চরম পরীক্ষা আছে, তবে এর জন্য সাহস লাগবে। প্রায় ৭-১০ দিন গোসল না করে বা জিমে ঘাম ঝরিয়ে এসে কোনো কাছের বন্ধুকে জিজ্ঞেস করুন আপনার শরীর থেকে কেমন গন্ধ আসছে। অবশ্য, এই কাজের জন্য আপনার রুমমেট আপনাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতেও পারে।
যাই হোক, জাপানে যেহেতু সবাই পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একটু বেশিই খুঁতখুঁতে, তাই নিজের অবস্থাটা জেনে রাখা ভালো। অন্তত ড্রাগস্টোরে গিয়ে সঠিক ডিওডোরেন্টটা খুঁজে বের করতে সুবিধা হবে।
