গভর্নরের বিদেশ সফর: এক রাতের হোটেল বিল ১ লাখ ইয়েন!
আমরা যখন ৬-জো'র এক রুমের অ্যাপার্টমেন্টে থাকি, তখন ফুকুওকার গভর্নর এক রাতে ১ লাখ ইয়েনের হোটেলে থাকেন।
ব্যাপারটা কী?
ফুকুওকার গভর্নর সেইনতারো হাতোরি (Hattori Seitaro) সাহেবের একটি খবর নিয়ে জাপানে বেশ আলোচনা হচ্ছে। জানা গেছে যে, গত পাঁচ বছরে গভর্নর এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা মিলে মোট ২৩টি বিদেশ সফরে খরচ করেছেন প্রায় ৩৩ কোটি ৭০ লক্ষ ইয়েন! হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, ৩৩ কোটি ইয়েনের বেশি। এইটা আমাদের জমানো টাকা নয়, জনগণের ট্যাক্সের টাকা।
এই বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে কী কী করা যেত, সেই হিসেবে না গিয়ে বরং খরচের ধরণটা দেখি। এই খবরটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন গভর্নর সাহেব নিজেই প্রিফেকচারাল অ্যাসেম্বলির অন্যান্য সদস্যদের খরচের ব্যাপারে 'সত্য উদঘাটন' করার কথা বলছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, নিজের দিকেই আঙ্গুল উঠেছে।
খরচটা কোথায় হল?
মোট খরচের মধ্যে, যাতায়াত বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লক্ষ ইয়েন এবং স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন প্রচার ও交流 অনুষ্ঠান বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লক্ষ ইয়েন।
সবচেয়ে মজার অংশটা হলো হোটেল ভাড়া। জানা গেছে, গভর্নর সাহেব এমন হোটেলেও থেকেছেন যার এক রাতের ভাড়া ১ লক্ষ ইয়েনের বেশি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (VIP) সাথে দেখা করার জন্য বড় ঘরের প্রয়োজন। কিন্তু আসল কাহিনী হলো, সেই ঘরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে দেখাই হয়নি। 😅
সবচেয়ে দামী সফর ছিল গত নভেম্বরে ফ্রান্সে, যেখানে গভর্নরসহ ২০ জনের একটি দল গিয়েছিল। খরচ হয়েছিল প্রায় ৫ কোটি ইয়েন। ভাবুন একবার, একটা ট্যুরের জন্য ৫ কোটি ইয়েন!
গভর্নর সাহেব কী বলছেন?
সাংবাদিক সম্মেলনে গভর্নর হাতোরি বলেছেন, তিনি নিজে থেকে কখনো কোনো নির্দিষ্ট হোটেল বা রুম বেছে দেন না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, "হোটেলে ঢুকে ঘরের আয়তন বা সাজসজ্জা দেখলে তো বোঝাই যায় যে এটা একটা দারুণ ঘর। সেই হিসেবে, দাম না জানলেও এটা যে দামী হবে, তা যেকোনো মানুষই বুঝবে। আমিও তাই মনে করি।"
মানে, বুঝলেন তো? ঘরটা যে দামী, সেটা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কিন্তু তখন আর কিছু করার ছিল না আরকি। তিনি এখন বলছেন যে, এই খরচ ঠিক ছিল কিনা তা যাচাই করার জন্য একটি তৃতীয় পক্ষের কমিটি গঠন করা হবে এবং সেপ্টেম্বরে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
ততদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের ৬-জো'র অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া নিয়েই চিন্তা করি।
