নতুনদের বেতন বেশি? জাপানি অফিসে পুরোনোদের ক্ষোভ
জাপানের অফিসে নতুনদের স্টার্টিং স্যালারি দেখে অনেক পুরোনো কর্মীদের চোখ কপালে উঠছে।
কাহিনীটা কী?
আজকাল জাপানের বড় বড় কোম্পানিগুলো নতুন কর্মীদের জন্য ৩০-৪০ মান ইয়েন (প্রায় ২-২.৫ লাখ টাকা) স্টার্টিং স্যালারি অফার করছে, যা খবর হয়ে ঘুরছে।
এই দেখে ৪০-এর কোঠায় থাকা বহু পুরোনো কর্মীর মেজাজ খারাপ। তাদের বক্তব্য, "আমাদের বেতন তো বছরের পর বছর ধরে এক জায়গাতেই আটকে আছে, অথচ এই নতুন ছেলেমেয়েরা এসেই এত টাকা পাচ্ছে! আমরা যখন শুরু করেছিলাম, তখন তো এর অর্ধেকও ভাবা যেত না!" 😤
কিন্তু আসল খেলাটা অন্য জায়গায়
ব্যাপারটা হলো, কোম্পানিগুলো যে নতুনদের বেশি বেতন দিচ্ছে, এর পেছনে একটা কৌশল আছে। এই অতিরিক্ত টাকাটা আকাশ থেকে পড়ছে না। যেমন, পরে যে বেতন বাড়ার কথা (বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট), তার একটা অংশ শুরুতেই দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে, প্রথমদিকে বেতন বেশি মনে হলেও, পরে আর তেমন বাড়ে না।
আরেকটা ব্যাপার হলো, বেশি বেতন মানে বেশি দায়িত্ব। আগে যেমন কয়েক বছর ধরে ধীরে-সুস্থে কাজ শেখার সুযোগ ছিল, এখন আর সেটা নেই। কোম্পানি আশা করে, নতুনরা প্রথম দিন থেকেই তাদের বেতনের যোগ্য কাজ করে দেখাবে।
পুরোনোদের কাছে কী আছে?
অন্যদিকে, পুরোনো কর্মীরা যে শুধু বঞ্চিত হচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। তাদের এমন কিছু সুবিধা আছে যা নতুনদের নেই। জাপানের বেশিরভাগ কোম্পানিতে একবার বেতন বাড়লে সেটা কমানো প্রায় অসম্ভব, কোম্পানির অবস্থা খারাপ হলেও। এটা একটা বড় পাওয়া।
সবচেয়ে বড় জিনিস হলো রিটায়ারমেন্ট বোনাস (退職金)। চাকরির বয়স যত বেশি হয়, এই বোনাসের পরিমাণ তত বাড়তে থাকে। নতুনদের স্টার্টিং স্যালারি কয়েক মান বেশি হলেও, ২০-৩০ বছরের অভিজ্ঞ কর্মীর রিটায়ারমেন্ট বোনাসের কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।
তাছাড়া রয়েছে অভিজ্ঞতা আর নেটওয়ার্কের মতো অদৃশ্য সম্পদ। কোন কাজটা কোন বসের সাথে আগে কথা না বললে এগোবে না, বা কাকে একটু অনুরোধ করলে চট করে সাহায্য পাওয়া যাবে—এই জ্ঞানগুলো বছরের পর বছর কাজ না করলে হয় না।
শেষ পর্যন্ত, আর্টিকেলটির পরামর্শ হলো, পুরোনো কর্মীদের মন খারাপ না করে নিজেদের এই লুকানো সম্পদগুলোকে কাজে লাগানো উচিত। নতুনদের সাহায্য করলে, তাদের শেখালে কোম্পানিতে নিজের গুরুত্ব আরও বাড়বে। এতে হয়তো নিজেরও বেতন বাড়ার পথ খুলে যেতে পারে।
