সকালের কলা খেয়েও মোটা হচ্ছেন? ভুলটা এখানে
সকালের নাস্তায় কলা খাচ্ছেন আর ভাবছেন স্বাস্থ্যকর? হয়তো অজান্তেই ভুল করছেন।
জাপানে আমাদের সকালগুলো কেমন কাটে তা তো সবারই জানা। অ্যালার্ম বাজার সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠে কোনোরকমে তৈরি হয়েই ট্রেনের জন্য দৌড়। এই তাড়াহুড়োর মধ্যে হাতে একটা কলা তুলে নেওয়াই সবচেয়ে সহজ মনে হয়, তাই না? আমিও তাই করতাম। কিন্তু সম্প্রতি জাপানের একজন পুষ্টিবিদ বলেছেন, এই অভ্যাসেই নাকি লুকিয়ে আছে মোটা হওয়ার কারণ। 🍌
প্রথমত, নাস্তার জন্য শুধু একটা কলার ওপর ভরসা করা। কলায় কার্বোহাইড্রেট থাকলেও প্রোটিন বা ফ্যাট 거의 নেই। ফলে, খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গিয়ে প্রচণ্ড খিদে পায়। আর তখন লাঞ্চের আগে হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, যেমনコンビニ-র কোনো মিষ্টি পানীয় বা স্ন্যাকস, সেটাই খাওয়া হয়ে যায়। লাঞ্চেও বেশি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, সময় বাঁচানোর জন্য খুব দ্রুত খাওয়া। কলা নরম হওয়ায় আমরা প্রায় না চিবিয়েই গিলে ফেলি। ভালো করে না চিবোলে মস্তিষ্ক ঠিকমতো সিগন্যাল পায় না যে পেট ভরছে। ফলে, খাওয়ার পরেও অতৃপ্তি থেকে যায়। আর যারা স্মুদি বানিয়ে খান, তাদের ক্ষেত্রে তো চিবোনোর সুযোগই নেই। এতে নিজের অজান্তেই বেশি পরিমাণে খাওয়া হয়ে যায়।
তৃতীয়ত, 'স্বাস্থ্যকর' ভেবে কলার সাথে অনেক কিছু মেশানো। যেমন, মিষ্টি দই, গ্রানোলা, মধু ইত্যাদি। এগুলো দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও, সব মিলিয়ে সকালের নাস্তায় চিনির পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দেয়। কলা এখানে দোষী নয়, দোষ হলো ভুল সঙ্গীর।
তাহলে উপায়? খুব সহজ। কলার সাথে প্রোটিন জাতীয় কিছু যোগ করুন। যেমন, চিনি ছাড়া দই (無糖ヨーグルト), দুধ, সয়া মিল্ক, একটা সিদ্ধ ডিম (ゆで卵), বা সামান্য পনির। এতে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকবে এবং অহেতুক খাওয়ার ইচ্ছে কমবে।
আসলে আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে সকালের নাস্তাটাও যেন একটা দৌড়ের অংশ হয়ে গেছে।
