জাপানে ভালো বস মানেই ভালো ম্যানেজার নয়
জাপানি এক আর্টিকেলের মতে, যে বস আপনার সব কথা শোনেন, তিনিই হয়তো আপনার ক্যারিয়ারের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর।
ব্যাপারটা কী?
জাপানের এক জনপ্রিয় অনলাইন ম্যাগাজিন, ডায়মন্ড অনলাইন, সম্প্রতি একটি আর্টিকেল ছেপেছে যেটা নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। তাদের মতে, ৪০ বছর বয়সেও যাকে ম্যানেজার (課長) বানানো উচিত নয়, তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মনে করেন কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো বা তাদের সব কথা শোনাই তার প্রধান কাজ।
ভাবছেন, এ কেমন কথা? যে বস কর্মীদের বোঝেন, তাদের কথা শোনেন, তিনিই তো ভালো বস, তাই না? জাপানি কর্পোরেট জগৎ ঠিক তেমনটা মনে করে না। তাদের যুক্তি হলো, এই ধরনের 'বেশি ভালো' বসরা আসলে দলের উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান। 🤔
কেন 'বেশি ভালো' বস থাকা খারাপ?
আর্টিকেলটিতে 'লিডার'স মাস্ক' (নেতার মুখোশ) নামের একটি বইয়ের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ম্যানেজারের কাজ কাউন্সেলরের মতো সবার মনের কথা শোনা নয়। তার আসল কাজ হলো দলকে দিয়ে ফলাফল বের করে আনা।
যখন একজন ম্যানেজার শুধু কর্মীদের সমস্যা শোনা, তাদের সান্ত্বনা দেওয়া আর তাদের ভালো রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন, তখন তিনি তার প্রধান কাজ থেকে সরে আসেন। যেমন - দলের পারফরম্যান্সের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা, সেই অনুযায়ী কাজ আদায় করা, এবং কর্মীদের পেশাগত উন্নতিতে সাহায্য করা। লেখকের মতে, এই 'বেশি ভালো' বসরা নিজের অজান্তেই কর্মীদের দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দেন এবং তাদের উন্নতি থামিয়ে দেন।
তাহলে বসের কাজটা কী?
অবশ্যই বস কর্মীদের কথা শুনবেন। কিন্তু সেটা সহানুভূতির জন্য নয়, বরং তথ্য সংগ্রহের জন্য। দলের বর্তমান পরিস্থিতি কী, কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কী করা দরকার — এই তথ্যগুলো জোগাড় করাই কথা শোনার আসল উদ্দেশ্য।
এই তথ্য ব্যবহার করে ম্যানেজার ঠিক করবেন কোনটা আগে করতে হবে, নতুন নিয়মকানুন বানাতে হবে কিনা, এবং কীভাবে দলকে লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। সোজা কথায়, ম্যানেজারের কাজ হলো আবেগ দিয়ে নয়, ফ্যাক্টস দিয়ে টিম চালানো। এই কারণেই হয়তো জাপানিরা বলে, লিডারের একটা 'মুখোশ' পরে থাকা উচিত, যেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, কেবল দায়িত্বই প্রকাশ পায়। ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত হলেও, জাপানের কাজের পরিবেশে ফেলে দেখলে হয়তো যুক্তিটা খুঁজে পাওয়া যায়। 😂
