জাপানে ৩০-এর পর হঠাৎ ক্লান্তি? দোষটা মাইটোকন্ড্রিয়ার
দিন দিন জাপানের জীবনের চাপে শরীর চলছে না? আসল কারণটা জানলে অবাক হবেন।
কী হচ্ছেটা কী?
আমিও ভাবতাম, জাপানে এত খাটুনির পর বয়স ৩০ পেরোলেই শরীরটা এমন ছেড়ে দেয় কেন। সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট, সারাদিন ক্লান্ত, ত্বকের অবস্থাও ভালো না। ভাবতাম, এটাই হয়তো এখানকার জীবনের নিয়ম। 😴
কিন্তু আসল ভিলেন নাকি অন্য কেউ: 'মাইটোকন্ড্রিয়া'। সোজা কথায়, এটা হলো আমাদের শরীরের কোষের ভেতরের 'পাওয়ার প্ল্যান্ট' বা ব্যাটারি। এই ব্যাটারিই আমাদের চলার শক্তি জোগায়।
গবেষকরা বলছেন, ৩০-এর দশকের শেষের দিক থেকে এই পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর সংখ্যা আর ক্ষমতা দুটোই নাকি হু হু করে কমতে থাকে। তাই হঠাৎ করে এমন ডাউন ফিল করাটা শুধু আপনার একার সমস্যা নয়।
তাহলে বাড়াবো কীভাবে?
ভালো খবর হলো, একে আবার জাগিয়ে তোলা যায়। জাপানি ডাক্তারদের মতে, সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো 'HIIT' বা হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং। মানে, ২০ সেকেন্ড জানপ্রাণ দিয়ে দৌড়, তারপর ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম। অনেকটা ইয়ামানোতে লাইনের শেষ ট্রেনটা ধরার চেষ্টার মতো আরকি।
আরেকটা উপায় হলো 'ইন্টারভাল ওয়াকিং'। ৩ মিনিট দ্রুত হাঁটা, ৩ মিনিট আস্তে হাঁটা। শিঞ্জুকু স্টেশনে ট্রেন বদল করার সময় আমরা তো এটা প্রায়ই করি, তাই না? এক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেক প্ল্যাটফর্মে দৌড়, তারপর চলন্ত সিঁড়িতে শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা।
আর '১৬ ঘণ্টা ফাস্টিং'? সকালের তাড়ায় নাস্তা না করা আর ওভারটাইম শেষে রাত করে ডিনার—এই লাইফস্টাইলে আমাদের অনেকেরই তো এটা অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন থেকে একটু প্ল্যান করে করলেই হলো।
সবচেয়ে বড় ভুলটা আমরা কোথায় করি
কিন্তু সবচেয়ে বড় টুইস্টটা অন্য জায়গায়। ক্লান্ত লাগলেই আমরা ছুটি মাৎসুমোতো কিইয়োশি বা ডন কিহোতে। একগাদা ভিটামিন সি, ই, আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাপ্লিমেন্ট কিনে ভাবি, এবার হয়তো শরীর চাঙ্গা হবে।
জাপানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাই নাকি সবচেয়ে বড় ভুল। ব্যায়ামের পর শরীরে যে সামান্য চাপ তৈরি হয়, সেটাই নাকি মাইটোকন্ড্রিয়া বাড়ার জন্য জরুরি সংকেত। অতিরিক্ত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাপ্লিমেন্ট খেয়ে আমরা সেই সংকেতটাকেই নষ্ট করে দিই।
মানে, শরীরটাকে ঠিক করার জন্য যে জিনিসটা কিনছি, সেটাই হয়তো উপকারের বদলে ক্ষতি করছে। জাপানে এসে কত কী-ই না শিখতে হয়। 😅
