জাপানের দোকানে থাকা সেই 'গোপন' বিষ
আপনার প্রিয় konbini খাবারটিই হয়তো অজান্তে আপনার কিডনির ক্ষতি করছে।
কী হচ্ছেটা কী?
জাপানে এসে সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর রান্না করার এনার্জি থাকে না, এটা আমাদের সবারই গল্প। তখন ভরসা কি? অবশ্যইコンビニ (konbini) বা সুপার মার্কেটের রেডি-টু-ইট খাবার। সস্তা, সহজলভ্য, আর খেতেও মন্দ না। কিন্তু সম্প্রতি জাপানের এক ডাক্তার যা বলেছেন, তা শুনে আমার তো রাতের ঘুম হারাম হওয়ার জোগাড়। 😥
ওনারা বলছেন, এই সব প্রসেসড খাবারের মধ্যে এমন একটা উপাদান লুকিয়ে আছে যা আমাদের কিডনিকে ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছে। উপাদানটির নাম ফসফরাস বা 'リン' (rin)। এমনিতেই এই জিনিসটা আমাদের শরীরের জন্য দরকারি, কিন্তু সমস্যা হলো আমরা প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি খাচ্ছি।
সমস্যাটা তাহলে কোথায়?
ব্যাপারটা হলো, ফসফরাস দুই রকমের আছে। একটা হলো 'অর্গানিক', যা আমরা মাংস, মাছ বা সবজি থেকে পাই। শরীর এটাকে সহজে শোষণ করতে পারে না, তাই বাড়তি অংশটুকু বেরিয়ে যায়। কিন্তু আরেকটা হলো 'ইনঅর্গানিক' ফসফরাস, যা ফুড অ্যাডিটিভ হিসেবে বিভিন্ন প্রসেসড খাবারে ব্যবহার করা হয়। আর এটাই আসল ভিলেন।
এই ইনঅর্গানিক ফসফরাস শরীর প্রায় পুরোটাই শুষে নেয়। ফলে কিডনির ওপর 엄청 (엄청) চাপ পড়ে এটাকে শরীর থেকে বের করার জন্য। বছরের পর বছর ধরে কাপ নুডলস, সসেজ, হ্যাম, বিভিন্ন স্ন্যাকস আর konbini-র বেনতো বক্স খেতে থাকলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। এর ফল কিন্তু ভয়ংকর — হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তাহলে করণীয় কী?
আপনি হয়তো ভাবছেন, এখন থেকে খাবারের প্যাকেটের পেছনের লেখা বা '食品表示' (shokuhin hyōji) দেখেই কিনব। আমিও তাই ভেবেছিলাম। কিন্তু জাপানের লেবেলিং সিস্টেমটা একটা গোলকধাঁধা। অনেক সময়ই প্যাকেটের গায়ে সরাসরি 'ফসফরাস' বা 'リン酸塩' (rinsan'en) লেখা থাকে না।
যেমন, রামেনের নুডলস বানাতে 'かんすい' (kansui) ব্যবহার করা হয়। এই 'かんすい'-এর ভেতরেই ফসফেট মেশানো থাকতে পারে, কিন্তু প্যাকেটে শুধু 'かんすい' লেখাই যথেষ্ট। একইভাবে 'PH調整剤' (pH chōseizai) বা '乳化剤' (nyūkazai) লেখা অ্যাডিটিভগুলোর ভেতরেও ফসফরাস লুকিয়ে থাকতে পারে। নিয়মটাই এমন।
একেবারে বন্ধ করা তো সম্ভব না, আমরা সবাই জানি। তবে একটা সহজ উপায় হলো, যে খাবারের প্যাকেটের পেছনে উপাদানের তালিকা যত লম্বা আর দুর্বোধ্য কাটাকানা অক্ষরে ভরা, সেটা এড়িয়ে চলা। সপ্তাহে কতবার konbini-র খাবার খাবেন, তার একটা নিয়ম করে নিতে পারেন। এটা হয়তো আমাদের আয়ু কয়েক বছর বাড়িয়ে দিতে পারে, কে জানে।
