জাপানে প্রমোশনের গোপন কৌশল
জাপানে রাত জেগে প্রেজেন্টেশন বানিয়েও বসের মুখ থেকে শুধু "ওয়াকোরিমাসেন" শুনছেন?
নিখুঁত কাজটাই কি সমস্যা?
আমরা অনেকেই এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছি। সারা রাত জেগে, শিনকানসেনের ডেটার চেয়েও বেশি ডেটা দিয়ে একটা নিখুঁত প্রেজেন্টেশন বানানো। উদ্দেশ্য একটাই: বস যেন কোনও প্রশ্ন করার সুযোগই না পান।
কিন্তু ফলাফল হয় তার উল্টো। ৫০ পাতার ফাইল দেখে আপনার বুচো (部長) ক্লান্ত হয়ে পড়েন। শেষে বলেন, "একটু জটিল লাগছে, বুঝিয়ে বলো তো।" আর আপনার সব পরিশ্রম জলে যায়। মনে হয়, এর চেয়ে আবর্জনা ফেলার নিয়মকানুন বোঝা সহজ ছিল। 😂
তাহলে বুদ্ধিমানরা কী করেন?
জাপানের ৮১৫টি কোম্পানির ১ লক্ষ ৭০ হাজার কর্মীর উপর করা একটি সমীক্ষায় এক অদ্ভুত জিনিস দেখা গেছে। যারা দ্রুত প্রমোশন পান, তারা ইচ্ছা করে নিজেদের প্রেজেন্টেশনে খুঁত রেখে দেন।
অবাক হচ্ছেন? একে জাপানিতে বলে "সেলফ-ৎসুক্কোমি" (セルフツッコミ) বা নিজের ভুল নিজে ধরা। তারা মিটিংয়ের আগেই ভেবে নেন কী কী প্রশ্ন আসতে পারে। যেমন, "এই সংখ্যার উৎস কী?", "প্ল্যান B বাদ দিয়ে প্ল্যান A কেন নয়?", "ঝুঁকিগুলো কী কী?"। এরপর তারা নিজেরাই সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো ছোট করে ফুটনোটে বা সাপ্লিমেন্টারি তথ্য হিসেবে জুড়ে দেন।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, সফল কর্মীদের ৫৭% প্রেজেন্টেশনে এই "সেলফ-ৎসুক্কোমি" ছিল। এর ফলে, তাদের প্রেজেন্টেশন নিয়ে পুনরায় ব্যাখ্যা চাওয়ার ঘটনা ৪৭% কমে গেছে। অর্থাৎ, বসের বকা খাওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
কিন্তু নিজের ভুল দেখালে বিপদ নেই?
প্রথমেই মনে হতে পারে, নিজের কাজের দুর্বলতা নিজেই দেখিয়ে দিলে তো বিপদ বাড়বে। কিন্তু জাপানি কর্পোরেট সাইকোলজি কাজ করে অন্যভাবে।
যখন আপনি সম্ভাব্য প্রশ্ন বা সমালোচনার উত্তর আগেই দিয়ে দেন, তখন আপনার বস ভাবেন, "বাহ! ছেলেটা তো সব দিক ভেবে দেখেছে। তাহলে আর চিন্তা নেই।" এতে আপনার প্রতি তার আস্থা বেড়ে যায়। আপনার সততা আর দূরদর্শিতা দেখে তিনি ইমপ্রেস হন।
আসলে বসরা এমন প্রেজেন্টেশন চান না যেখানে আপনি শুধু নিজের গুণগান গাইছেন। তারা দেখতে চান আপনি কতটা নিরপেক্ষভাবে পুরো বিষয়টাকে বিশ্লেষণ করতে পেরেছেন। আপনার প্রেজেন্টেশনে ওই ছোট্ট "সেলফ-ৎসুক্কোমি"-টাই আপনার সেই নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়।
