বিজনেস বই পড়েন বলে লজ্জা পান? আপনার বুকশেলফ অন্য কথা বলে
আপনার বুকশেলফ দেখে কেউ কি কখনো বলেছে, 'বাহ, আপনি তো বেশ সিরিয়াস বই পড়েন'?
এইসব বই পড়া কি লজ্জার?
জাপানে আসার পর আমাদের অনেকেরই ছোট্ট ১কে (1K) অ্যাপার্টমেন্টের তাক ভরে ওঠে বিভিন্ন বইয়ে। জাপানি ভাষা শেখার বই, স্কিল আপ করার জন্য টেকনিক্যাল বই, আবার কখনো কখনো লিডারশিপ বা ফাইন্যান্স নিয়ে নানা রকম বিজনেস বই।
কিন্তু কোনো বন্ধু বা সহকর্মী বাসায় এলে হঠাৎ করেই এই বইয়ের তাকটা দেখাতে কেমন যেন লজ্জা লাগে। কেউ হয়তো বাঁকা চোখে তাকিয়ে ভাবে, "বাব্বা, কী ভাব!" অথবা বলে, "এইসব বই পড়ে কি সত্যিই কোনো লাভ হয়?" 😒
এইসব কথা শুনলে মনে হয়, নিজের উন্নতির জন্য চেষ্টা করাটাও কি একটা অপরাধ? এই অনুভূতিটা হয়তো আপনার একার নয়।
বই 'উত্তর' দেয় না, 'প্রশ্ন' করে
সম্প্রতি জাপানের এক আর্টিকেলে এই বিষয়টা নিয়েই কথা বলা হয়েছে। সেখানে '世界の果てのカフェ' (Sekai no Hate no Cafe) নামের একটি বইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়। বইটির মূল কথা হলো—বইয়ের আসল কাজ আপনাকে জ্ঞান দেওয়া নয়, বরং আপনাকে দিয়ে প্রশ্ন করানো।
ধরুন, আপনি একটা বিজনেস বই পড়ছেন। উদ্দেশ্য শুধু কিছু তথ্য মুখস্থ করে বসের সামনে বলা নয়। আসল উদ্দেশ্য হলো, বইয়ের কোনো একটা লাইন পড়ে হঠাৎ থমকে যাওয়া আর নিজেকে প্রশ্ন করা, "আমি এখানে কেন আছি?" বা "আমার জীবনের আসল লক্ষ্যটা কী?"
যারা বলে "সেলফ-হেল্প বইয়ের কোনো মানে নেই", তারা হয়তো বইটাকে শুধু তথ্যের ভান্ডার হিসেবে দেখেছে। বই পড়ে নিজের সাথে কথা বলার অভিজ্ঞতাটা হয়তো তাদের এখনো হয়নি।
আপনার বইয়ের তাক আপনার 'ইতিহাস'
বইয়ের তাক লুকিয়ে রাখার কোনো জিনিস নয়। বরং এটা আপনার ব্যক্তিগত জার্নির একটা ম্যাপ।
ওই তাকের মধ্যেই হয়তো আপনার প্রথম কেনা N2 লেভেলের প্রস্তুতির বইটা আছে, যেটা আপনাকে জাপানে প্রথম চাকরি পেতে সাহায্য করেছিল। অথবা আছে কেইগো (keigo) শেখার সেই কঠিন বইটি, যেটা পড়তে গিয়ে চোখে জল চলে এসেছিল। প্রতিটি বই আপনার লড়াই, আপনার শেখা এবং আপনার বেড়ে ওঠার সাক্ষী।
এটা শুধু কিছু কাগজের সংগ্রহ নয়, এটা হলো জাপানে আপনার নিজেকে টিকিয়ে রাখার এবং আরও ভালো কিছু করার চেষ্টার ইতিহাস। তাই লজ্জা পাওয়ার বদলে এটাকে নিজের অর্জন হিসেবে দেখুন।
আসল লজ্জার বিষয় বিজনেস বই পড়া নয়, বরং নিজের জীবন নিয়ে, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে একবারও গুরুত্ব দিয়ে না ভাবা।
