জাপানে এখন বিদেশি গরুর মাংস দেশির চেয়েও দামি!
এখন থেকে সস্তার দিন শেষ, বিদেশি গরুর মাংস জাপানের দেশি গরুর মাংসের চেয়েও দামি হয়ে গেছে।
কী সব হচ্ছে জাপানে?
আমি তো এতদিন জানতাম জাপানে দেশি গরুর মাংস মানেই আভিজাত্য আর আকাশছোঁয়া দাম। আর আমাদের মতো গরিব প্রবাসীদের ভরসা ছিল অস্ট্রেলিয়ান বা আমেরিকান গরুর মাংস। কিন্তু সেদিন সুপারমার্কেটে গিয়ে তো আমার মাথা ঘুরে গেল।
আইচি প্রিফেকচারের এক দোকানে গিয়ে দেখি, অস্ট্রেলিয়ার স্টেক মাংসের দাম জাপানের দেশি গরুর মাংসের চেয়ে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ১২০ ইয়েন বেশি! শুধু তাই না, নরওয়ের সস্তা ম্যাকরল মাছ (塩サバ) এখন জাপানের মাছের চেয়েও দামি। দোকানের ম্যানেজারও হতাশ হয়ে বলছেন, "এরকম দাম হয়ে যাবে, আমি নিজেও কখনো ভাবিনি।"
কারণটা কী?
এই উলটপুরাণের পেছনের কারণ হলো জাপানি ইয়েনের ঐতিহাসিক দরপতন। প্রায় ৩৯ বছরের মধ্যে ইয়েনের দাম এখন সর্বনিম্ন। সহজ কথায়, জাপানের টাকা দিয়ে বিদেশ থেকে কিছু কিনতে গেলে এখন অনেক বেশি খরচ হচ্ছে।
যার ফলে, আমদানি করা সবকিছুর দাম হু হু করে বাড়ছে। যদিও জাপানের দেশীয় জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে, কিন্তু বিদেশি জিনিসপত্রের দাম তার চেয়েও বেশি হারে বাড়ছে। তাই এতদিন ধরে যে নিয়মটা আমরা জানতাম, "বিদেশি জিনিস মানেই সস্তা" — সেই দিন সম্ভবত শেষ হতে চলল।
আমাদের কী হবে?
এই মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কাটা সরাসরি আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পকেটে এসে লাগছে। একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাদের বার্ষিক আয় ৫০০ থেকে ৬০০ মান ইয়েন, তাদের খরচ বছরে প্রায় ১৫,০০০ ইয়েন বেড়ে যাবে। আয় যত বেশি, খরচের বোঝাও তত বেশি।
শুধু তাই না, ইয়েনের এই দুর্বল অবস্থার কারণে অনেক ছোট-বড় কোম্পানিও দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের চাকরির বাজারের জন্যও একটা চিন্তার বিষয়। দোকানে আসা ক্রেতারাও হতাশ। কেউ বলছে, "কিছুই বুঝতে পারছি না, কোনটা কিনব", আবার কেউ বলছে, "বিদেশিটাও কিনতে পারছি না, দেশিটাও দামি। আমাদের মতো মানুষের চলবে কীভাবে?" 🥲
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়েনের এই দুর্বল অবস্থা নাকি আরও কিছুদিন চলবে। তাই এখন থেকে মাসের খরচের হিসাবটা হয়তো আরও একটু সাবধানে করতে হবে।
