মালিক হয়েও কর্মচারীর চেয়ে কম আয়?
ভাবুন তো, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতি তিনজন দোকান বা ছোট ব্যবসার মালিকের মধ্যে একজন এখন কর্মচারীর ন্যূনতম বেতনের থেকেও কম আয় করছেন।
কাহিনীটা কী?
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি জরিপ করা হয়েছে, আর তাতে এই অবাক করা তথ্য উঠে এসেছে। একদিকে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো চাইছে ন্যূনতম মজুরি ১৬.৩% বাড়িয়ে ঘণ্টায় ১২,০০০ উওন (প্রায় ১,২৬০ ইয়েন) করা হোক। অন্যদিকে, ছোট ব্যবসার মালিকরা বলছেন, কর্মচারী রাখার খরচ দিতে গিয়েই তাদের নাভিশ্বাস উঠছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৫০০ জন স্ব-নিযুক্ত মালিকের মধ্যে ৩৪% জানিয়েছেন যে তাদের মাসিক আয় বর্তমান ন্যূনতম মজুরির (মাসিক প্রায় ২.১৫ মিলিয়ন উওন) থেকেও কম। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, দোকান চালিয়ে যে লাভ থাকছে, তা দিয়ে কর্মচারীর বেতন দেওয়ার পর নিজের জন্য প্রায় কিছুই থাকছে না। 🤔
অবস্থা কতটা গুরুতর?
অর্ধেকেরও বেশি (৫৭%) ব্যবসায়ী বলেছেন, গত বছরের তুলনায় তাদের ব্যবসার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং রেস্তোরাঁর মালিকরা। এদের প্রায় ৬৬% জানিয়েছেন যে তাদের ব্যবসার অবনতি হয়েছে।
যখন তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ন্যূনতম মজুরি আর কতটা বাড়লে তারা ব্যবসা বন্ধ করার কথা ভাববেন, তখন ২৫.২% উত্তর দেন যে তারা "ইতিমধ্যেই শেষ সীমায় পৌঁছে গেছেন"। মানে, আর এক চুল নড়চড় হলেই ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
তাহলে এখন কী হবে?
এই পরিস্থিতিতে নতুন লোক নিয়োগ করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছেন মালিকরা। প্রায় ৬০% বলেছেন যে তাদের নতুন কর্মচারী নেওয়ার মতো আর্থিক অবস্থা নেই। তাহলে উপায়? অনেকেই (৩৭.৬%) বলছেন যে টিকে থাকতে হলে এখন জিনিসের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
মালিকদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ হলো, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সময় তাদের মতামতকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয় না। ৮৬% মনে করেন তাদের কথা কেউ শোনে না। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন যে, এই পরিস্থিতিতে হুট করে মজুরি বাড়ালে ফল উল্টো হতে পারে। এতে হয়তো ছোটখাটো অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে এবং কর্মসংস্থান কমার ঝুঁকিও রয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ জটিল। একদিকে কর্মচারীদের ন্যায্য বেতনের দাবি, অন্যদিকে মালিকদের টিকে থাকার লড়াই।
