ইয়েনের দাম কমছেই, দেশে টাকা পাঠানোর এটাই কি সেরা সময়?
দেশে টাকা পাঠানোর আগে একবার ইয়েনের রেট দেখে নিন, মাথা ঘুরে যেতে পারে।
কী হচ্ছে এসব?
আপনার কষ্টার্জিত ইয়েন আবার ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে এক ডলারের দাম উঠেছিল প্রায় ১৬২ ইয়েন। শেষবার এই অবস্থা হয়েছিল ১৯৮৬ সালে, মানে প্রায় ৪০ বছর আগে! তখন হয়তো আমাদের অনেকের জন্মও হয়নি।
জাপান সরকার অবশ্য বলছে তারা এই বিষয়ে 'গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ' নেবে। কিন্তু এই কথা তো আগেও শুনেছি, তাই না?
কেন এমন হচ্ছে?
আসল সমস্যাটা বেশ সহজ। জাপানের ব্যাংকে টাকা রাখলে সুদ পাওয়া যায় ১%, আর আমেরিকার ব্যাংকে রাখলে পাওয়া যায় প্রায় ৩.৫০% থেকে ৩.৭৫%। সহজ কথায়, বড় বিনিয়োগকারীরা তাদের টাকা জাপানের চেয়ে আমেরিকায় রাখতেই বেশি আগ্রহী। এর ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ছে আর ইয়েনের দাম কমছে।
যতদিন এই সুদের হারের পার্থক্য থাকবে, ততদিন ইয়েনের এই দুর্বল অবস্থা বদলানো খুব কঠিন। এটা অনেকটা একদিক ঢালু রাস্তায় বল গড়িয়ে দেওয়ার মতো।
এখন কী হবে?
সরকার এর আগেও দুইবার বাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল। এই বছরের জুলাই মাসে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ইয়েনের পতন থামানোর চেষ্টা করে, তাতে সাময়িকভাবে রেট ১৪০-এ নেমে এসেছিল। তার আগে এপ্রিলে ৭৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করেও খুব একটা লাভ হয়নি। কয়েকদিন পরেই আবার যেই সেই অবস্থা।
বাজারের যা পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে সরকারের এই চেষ্টাগুলো সমুদ্রে এক ফোঁটা জল ফেলার মতো। আপাতত, আমরা যারা দেশে টাকা পাঠাই, তাদের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কী করার আছে 🫠
