ঠাণ্ডা জল পান করা: ভালো না শরীরের জন্য আরেকটা টেনশন?
ঠাণ্ডা জল আপনার মাইগ্রেন বাড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু এটা আপনাকে ঠান্ডা লাগিয়ে দেবে না।
কী হয় আসলে?
গরমের দিনে বা ব্যায়ামের পর এক গ্লাস বরফ-ঠাণ্ডা জল, আহা! প্রাণটা জুড়িয়ে যায়, তাই না? এটা সত্যি যে ঠাণ্ডা জল শরীরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে।
মেডিকেল নিউজ টুডে-র মতে, শরীর এই ঠাণ্ডা জলকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনতে সামান্য শক্তি খরচ করে। কিন্তু আসল মজাটা হলো ওই তাৎক্ষণিক ঠাণ্ডা অনুভূতি, যা আমাদের গরম থেকে আরাম দেয়।
ব্যায়ামের পর ঠাণ্ডা জল পান করলে শরীরের তাপমাত্রা কমে এবং বেশ সতেজ লাগে। তবে এর মানে এই না যে স্বাস্থ্যের দিক থেকে ঠাণ্ডা জল সাধারণ তাপমাত্রার জলের চেয়ে বেশি উপকারী। মূল বিষয়টা হলো অনুভূতি।
সমস্যাটা তাহলে কোথায়?
বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ হলেও, ಕೆಲজনের জন্য ঠাণ্ডা জল কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। হেলথলাইনের তথ্য অনুযায়ী, যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা পানীয় মাথাব্যথা শুরু করতে পারে।
আর খুব দ্রুত ঠাণ্ডা জল পান করলে যে মাথায় একটা তীক্ষ্ণ ব্যথা হয়, যেটাকে ‘ব্রেইন ফ্রীজ’ বলে, ওটা কিন্তু সত্যি। আমি তো ভাবতাম এটা শুধু আমারই হয়।
যাদের হজমের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা জল পেটে অস্বস্তি বা ফোলাভাব তৈরি করতে পারে। আর সর্দি-কাশির সময় ঠাণ্ডা জল নাকি শ্বাসযন্ত্রের শ্লেষ্মাকে সাময়িকভাবে আরও ঘন করে তুলতে পারে, যা বেশ বিরক্তিকর। 🤧
শেষ কথা: ঠাণ্ডা না গরম?
এতকিছুর পরেও, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য ঠাণ্ডা জল ক্ষতিকর নয়। ঠাণ্ডা জল খেলে সর্দি হয় বা ইমিউনিটি কমে যায়, এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, বলছে ভেরিওয়েল হেলথ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসল কথা হলো পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা। সেটা ঠাণ্ডা, গরম বা সাধারণ তাপমাত্রার—যেটা আপনার পছন্দ।
যদি ঠাণ্ডা জল আপনাকে বেশি করে জল পান করতে উৎসাহিত করে, তাহলে সেটাই আপনার জন্য ভালো। তবে, যাদের মাথাব্যথা বা হজমের সমস্যা হয়, তারা সাধারণ তাপমাত্রার জল পান করার কথা ভাবতে পারেন। দিন শেষে, আপনার শরীরই সেরা বিচারক।
